ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৩৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে আইসিসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

## টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে আইসিসির বড় আর্থিক ঝুঁকি

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এক বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সংস্থাটি প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার সম্প্রচার চুক্তি হারাতে বসেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি বয়কট করে, তবে আগামী বছর আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্ব বিষয়ক চুক্তি নবায়ন নাও হতে পারে। এটি আইসিসির আর্থিক কাঠামোর উপর একটি বড় ধাক্কা হানবে, কারণ সংস্থাটির আয়ের সিংহভাগই আসে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে।

আইসিসি এবং ভারতীয় সম্প্রচারকারী জিও স্টারের মধ্যে চার বছরের জন্য তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি হয়েছিল, যার বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে এবং নতুন চুক্তির মূল্য নির্ধারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই আইসিসি সাধারণত টুর্নামেন্টে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলকে একই গ্রুপে রাখার চেষ্টা করে। আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তানের একটি ম্যাচ থেকেই সংস্থাটি প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় করে।

সাম্প্রতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মোট রাজস্ব প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি। পাকিস্তান যদি এই লোভনীয় ম্যাচ বয়কট করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আইসিসি কর্মকর্তাদের ঘুম হারাম হওয়ারই কথা। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জিও স্টারের সঙ্গে আইসিসির নতুন চুক্তি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদি জিও স্টার চুক্তি নবায়ন না করে, তবে আইসিসির জন্য একই মূল্যে অন্য কোনো সম্প্রচারক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে, যা সংস্থাটির আয় কমিয়ে দেবে।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, আইসিসির প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার কথা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ থেকে আইসিসির সদস্য দেশগুলো এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও বিপুল পরিমাণ অর্থ পায়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ফলে তাদের আয়ও আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। সুতরাং, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু একটি টুর্নামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আইসিসির ভবিষ্যৎ আর্থিক ক্রিকেট কাঠামোর নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, যেকোনো মূল্যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসি জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার জন্য। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অবস্থান এখনো অনড় রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দেশের মন্ত্রীদের ফলপ্রসূ বৈঠক

৩৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে আইসিসি

আপডেট সময় : ০৯:৩২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে আইসিসির বড় আর্থিক ঝুঁকি

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এক বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সংস্থাটি প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার সম্প্রচার চুক্তি হারাতে বসেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি বয়কট করে, তবে আগামী বছর আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্ব বিষয়ক চুক্তি নবায়ন নাও হতে পারে। এটি আইসিসির আর্থিক কাঠামোর উপর একটি বড় ধাক্কা হানবে, কারণ সংস্থাটির আয়ের সিংহভাগই আসে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে।

আইসিসি এবং ভারতীয় সম্প্রচারকারী জিও স্টারের মধ্যে চার বছরের জন্য তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি হয়েছিল, যার বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে এবং নতুন চুক্তির মূল্য নির্ধারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই আইসিসি সাধারণত টুর্নামেন্টে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলকে একই গ্রুপে রাখার চেষ্টা করে। আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তানের একটি ম্যাচ থেকেই সংস্থাটি প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় করে।

সাম্প্রতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মোট রাজস্ব প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি। পাকিস্তান যদি এই লোভনীয় ম্যাচ বয়কট করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আইসিসি কর্মকর্তাদের ঘুম হারাম হওয়ারই কথা। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জিও স্টারের সঙ্গে আইসিসির নতুন চুক্তি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদি জিও স্টার চুক্তি নবায়ন না করে, তবে আইসিসির জন্য একই মূল্যে অন্য কোনো সম্প্রচারক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে, যা সংস্থাটির আয় কমিয়ে দেবে।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, আইসিসির প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার কথা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ থেকে আইসিসির সদস্য দেশগুলো এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও বিপুল পরিমাণ অর্থ পায়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ফলে তাদের আয়ও আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। সুতরাং, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু একটি টুর্নামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আইসিসির ভবিষ্যৎ আর্থিক ক্রিকেট কাঠামোর নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, যেকোনো মূল্যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসি জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার জন্য। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অবস্থান এখনো অনড় রয়েছে।