ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে দেবো, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো: ডা. শফিকুর রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক চেহারা পাল্টে যাবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ পাঁচ বছরেই বাস্তবে রূপ নেবে। শনিবার বিকেলে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারী কাউকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না; তারা যে দেশেই থাকুক না কেন, তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেন, তবে তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে জনগণের ‘চৌকিদার’ হিসেবে কাজ করবে, দেশের ‘মালিক’ নয়, এবং সবার মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

সিলেটকে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন এবং জামায়াত তারই উত্তরসূরি। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে এবং এর সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

ডা. শফিকুর রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরপরই জামায়াত ঘোষণা করেছিল, দল হিসেবে তারা কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। তিনি দাবি করেন, তাদের নেতাকর্মীরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বা ‘মামলা-বাণিজ্য’ করেননি। তবে তিনি এও বলেন, যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তিনি আইনি সহায়তা নিতে পারবেন।

শনিবার বেলা আড়াইটা থেকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদরাসা মাঠে আসতে শুরু করেন। বিকেল ৩টার মধ্যেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং আশপাশের রাস্তাও লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। এই জনসভায় প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন, যাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া, জনসভা মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির সিলেটের ছয়টি এবং সুনামগঞ্জের তিনটি আসনের জামায়াত ও জোটের প্রার্থীদের হাতে তাদের স্ব স্ব দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে তিনি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পৃথক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন।

ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে সিলেটের সন্তান উল্লেখ করে বলেন, তিনি এখানে বড় হয়েছেন এবং আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, বরং এলাকার একজন হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দেশের সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য উপস্থিত জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে দেবো, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক চেহারা পাল্টে যাবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ পাঁচ বছরেই বাস্তবে রূপ নেবে। শনিবার বিকেলে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারী কাউকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না; তারা যে দেশেই থাকুক না কেন, তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেন, তবে তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে জনগণের ‘চৌকিদার’ হিসেবে কাজ করবে, দেশের ‘মালিক’ নয়, এবং সবার মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

সিলেটকে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন এবং জামায়াত তারই উত্তরসূরি। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে এবং এর সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

ডা. শফিকুর রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরপরই জামায়াত ঘোষণা করেছিল, দল হিসেবে তারা কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। তিনি দাবি করেন, তাদের নেতাকর্মীরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বা ‘মামলা-বাণিজ্য’ করেননি। তবে তিনি এও বলেন, যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তিনি আইনি সহায়তা নিতে পারবেন।

শনিবার বেলা আড়াইটা থেকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদরাসা মাঠে আসতে শুরু করেন। বিকেল ৩টার মধ্যেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং আশপাশের রাস্তাও লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। এই জনসভায় প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন, যাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া, জনসভা মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির সিলেটের ছয়টি এবং সুনামগঞ্জের তিনটি আসনের জামায়াত ও জোটের প্রার্থীদের হাতে তাদের স্ব স্ব দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে তিনি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পৃথক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন।

ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে সিলেটের সন্তান উল্লেখ করে বলেন, তিনি এখানে বড় হয়েছেন এবং আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, বরং এলাকার একজন হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দেশের সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য উপস্থিত জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।