ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর প্রতি দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে এবং সরকার একটি মহলকে জয়ী করাতে তালিকা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এর ফলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলেও পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হচ্ছে। শনিবার নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে সরকারের একটি মহল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর তালিকা তৈরি করেছে, যাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কিছু কর্মকর্তার মধ্যে এসব প্রার্থীর প্রতি বিশেষ দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তার দাবি, কিছু প্রার্থী এরই মধ্যে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করছেন এবং সরকারের ভেতর থেকেও কেউ কেউ তাদের সংসদে দেখতে চেয়েছেন। তিনি এটিকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আড়ালে পক্ষপাতিত্ব বলে অভিহিত করেন, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, তাদের সংসদে পাঠানোর এই প্রবণতা সঠিক নয়।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-৮ আসনের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। রাতে শান্তিনগর ইস্টার্ন পয়েন্টের ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গেও তার নির্বাচনী মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও কারাভোগের মাধ্যমে তারা রাজনীতির পথকে সুগম করেছেন। তাই এককভাবে কেউ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দাবিদার নন। তবে কিছু ব্যক্তি এমনভাবে নিজেদের উপস্থাপন করছেন, যেন তারাই দেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যারা তখন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, তারা কখনো ক্ষমতা বা মন্ত্রিত্বের দাবি করেননি। অথচ যারা তখন স্কুল-কলেজে পড়ছিলেন, তারাই এখন বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার। তার অভিযোগ, বিগত দিনে সরকারের ভেতরেও তাদের প্রতিনিধিরা ছিলেন এবং এখনও আছেন।
সাবেক এই মন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বর্তমানের চেয়েও ভয়াবহ সময় দেশের সামনে আসছে। তার মতে, বর্তমান, আগামী বা অন্তর্বর্তীকালীন—যেকোনো সরকারই আসুক না কেন, বিশ্বের কিছু প্রভাবশালী শক্তি বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। তিনি আরও দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট জোটের প্রার্থী ও কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে মনে হচ্ছে তারা এখনই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। মির্জা আব্বাসের মতে, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো বর্তমানে ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে এবং সেখান থেকেই তারা ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে আসন্ন নির্বাচনকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করতে চাইছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, বারবার বিএনপিকে দোষারোপ করা হলেও গত ১৭-১৮ বছর ধরে দলটি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এই সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারাই নির্বাচনী তফসিল প্রণয়ন, কমিশন গঠন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার অভিযোগ, এখন বিএনপিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, এমনকি এমনও ধারণা দেওয়া হচ্ছে যেন আওয়ামী লীগকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার বিএনপিকেও ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু ব্যক্তি ক্ষমতাকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। তাদের অভিপ্রায় হলো, কিছু বিশেষ ব্যক্তিই ক্ষমতায় থাকবেন এবং ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। এমন মনোভাবের খবর তাদের কানে আসছে বলে তিনি জানান।
তবে মির্জা আব্বাস দেশের সচেতন জনগণের ওপর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তারা কখনোই ভুল করেননি এবং সবসময় সঠিক জায়গায় ভোট দিয়েছেন। কিন্তু গত ১৮ বছর ধরে জনগণ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার (ঢাকা-৮) প্রসঙ্গে বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকার মানুষ তাদের সংসদ সদস্যের (এমপি) মুখ দেখেনি। এলাকার বাইরে থেকে আসা একজন ব্যক্তি যেন এই এলাকাকে নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন।
নিজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি এই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন, বেড়ে উঠেছেন এবং এখানকার মানুষের সঙ্গে সবসময় তার যোগাযোগ ছিল। তার দাবি, বিগত ১৭-১৮ বছরে এই এলাকার কোনো এমপি বা প্রার্থী মানুষের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হননি বা এলাকার জন্য এক পয়সাও খরচ করেননি।
মির্জা আব্বাস নিজের কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, তিনি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন, প্রতিটি দুর্যোগে তাদের সঙ্গে ছিলেন। মন্ত্রী বা মেয়র থাকাকালেও তিনি ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেননি। গুলশানের মেয়র হাউসে না গিয়ে তিনি এলাকায়ই থেকেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং পুলিশি বাধা পেরিয়ে তাকে খুঁজতে না হয়। এলাকাবাসীর ভালোবাসায় তিনি তিনবার মন্ত্রী ও একবার মেয়র হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, তিনি কখনোই মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকেননি।
রমনা পার্কের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, তিনি পার্কের নিয়মিত পরিদর্শক ছিলেন এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা উপলব্ধি করে চারটি টয়লেট নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও গাছ লাগানো, পানির ব্যবস্থা করা এবং ধুলাবালি কমাতে রাস্তায় পানি ছিটানোর মতো কাজ করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে নির্বাচিত হলে তাকে খুঁজতে হবে না, একটি ফোন করলেই তাকে পাওয়া যাবে।
রিপোর্টারের নাম 

























