ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচিত হলে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আনা হবে: তারেক রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শনিবার দিনাজপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমাজে এক শ্রেণির নিভৃতচারী মানুষ রয়েছেন, যাদের অবদান জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনস্বীকার্য। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুরা প্রতিনিয়ত মানুষকে সৎ পরামর্শ ও সঠিক পথের দিশা দেন। অথচ তাদের অনেকেই অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে এসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি কোষাগার থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করবে।

অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ধানের শীষ যখনই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণের পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসারে বিএনপি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীতেও গণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

দিনাজপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের এই জনপদ কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ব্যাপকভিত্তিক কৃষি-শিল্প গড়ে তোলার। বিশেষ করে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী লিচু ও কাটারিভোগ চাল যেন বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এ দেশের মানুষ নিজ অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন। আসন্ন নির্বাচনকে জনগণের হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার এক বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে নীলফামারীতে আয়োজিত অপর এক জনসভাতেও তিনি ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়নের এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণে বিএনপি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

নির্বাচিত হলে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আনা হবে: তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শনিবার দিনাজপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমাজে এক শ্রেণির নিভৃতচারী মানুষ রয়েছেন, যাদের অবদান জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনস্বীকার্য। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুরা প্রতিনিয়ত মানুষকে সৎ পরামর্শ ও সঠিক পথের দিশা দেন। অথচ তাদের অনেকেই অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে এসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি কোষাগার থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করবে।

অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ধানের শীষ যখনই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণের পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসারে বিএনপি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীতেও গণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

দিনাজপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের এই জনপদ কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ব্যাপকভিত্তিক কৃষি-শিল্প গড়ে তোলার। বিশেষ করে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী লিচু ও কাটারিভোগ চাল যেন বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এ দেশের মানুষ নিজ অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন। আসন্ন নির্বাচনকে জনগণের হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার এক বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে নীলফামারীতে আয়োজিত অপর এক জনসভাতেও তিনি ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়নের এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণে বিএনপি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।