ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আশুলিয়া থানায় অগ্নিসংযোগ: কনস্টেবল মুকুলের মৃত্যুদণ্ড, রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

গত জুলাই মাসের গণআন্দোলনের সময় ঢাকার আশুলিয়া থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কনস্টেবল মুকুল চোকদারের মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে মাদারীপুরের রাজৈরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই রায় পুনর্বিবেচনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন মুকুলের পরিবার ও এলাকাবাসী।

রাজৈর পৌর এলাকার মৃত বাবুল চোকদারের ছেলে মুকুল চোকদার (৩২) আশুলিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানায় লাশ পোড়ানোর (অগ্নিসংযোগ) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সম্প্রতি একটি বিশেষ আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

শনিবার সকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাফিয়া শরীফ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মুকুলের মৃত্যুদণ্ডের রায় পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে মুকুলের মা পিনজিরা বেগম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই, আমি এই ফাঁসি মানি না। আমার ছেলের কেন ফাঁসি হবে? আমার স্বামী নেই, ছেলেটাকে কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়ে চাকরি দিয়েছি। আমি গরিব, টাকা দিতে পারিনি বলেই আজ আমার ছেলের এই অবস্থা। আর যারা টাকা দিতে পেরেছে, তাদের হয় জেল, ওসির হয় সাত বছর জেল, আর আমার ছেলে টাকা দিতে পারেনি, তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।”

মুকুলের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, “সে (মুকুল) ওই সময় শুধু ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিল। কোনো ভিডিও ফুটেজে তাকে এমন কোনো কাজে জড়িত দেখা যায়নি। তার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। যারা এসপি, ডিসি বা উচ্চ পদে ছিল, তারা অনেক টাকা খাইয়ে পার পেয়ে গেছে, তাদের কোনো বিচার হয়নি। আর আমার স্বামী একজন সাধারণ কনস্টেবল, সে এতিম। তার কোনো ভাই নেই, কোনো কিছুই নেই। তারা এভাবে তাকে শাস্তি দিল, নিরীহভাবে তাকে কেন ফাঁসির রায় দেওয়া হলো? তার ওপরের যারা ছিল, তাদের পাঁচ-সাত বছরের জেল হলো। আমি এই রায় মানি না, আমি চাই এর সুষ্ঠু বিচার হোক, সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু একটা রায় দেওয়া হোক।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: সংঘর্ষের জেরে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ১

আশুলিয়া থানায় অগ্নিসংযোগ: কনস্টেবল মুকুলের মৃত্যুদণ্ড, রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০১:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত জুলাই মাসের গণআন্দোলনের সময় ঢাকার আশুলিয়া থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কনস্টেবল মুকুল চোকদারের মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে মাদারীপুরের রাজৈরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই রায় পুনর্বিবেচনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন মুকুলের পরিবার ও এলাকাবাসী।

রাজৈর পৌর এলাকার মৃত বাবুল চোকদারের ছেলে মুকুল চোকদার (৩২) আশুলিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানায় লাশ পোড়ানোর (অগ্নিসংযোগ) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সম্প্রতি একটি বিশেষ আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

শনিবার সকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাফিয়া শরীফ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মুকুলের মৃত্যুদণ্ডের রায় পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে মুকুলের মা পিনজিরা বেগম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই, আমি এই ফাঁসি মানি না। আমার ছেলের কেন ফাঁসি হবে? আমার স্বামী নেই, ছেলেটাকে কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়ে চাকরি দিয়েছি। আমি গরিব, টাকা দিতে পারিনি বলেই আজ আমার ছেলের এই অবস্থা। আর যারা টাকা দিতে পেরেছে, তাদের হয় জেল, ওসির হয় সাত বছর জেল, আর আমার ছেলে টাকা দিতে পারেনি, তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।”

মুকুলের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, “সে (মুকুল) ওই সময় শুধু ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিল। কোনো ভিডিও ফুটেজে তাকে এমন কোনো কাজে জড়িত দেখা যায়নি। তার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। যারা এসপি, ডিসি বা উচ্চ পদে ছিল, তারা অনেক টাকা খাইয়ে পার পেয়ে গেছে, তাদের কোনো বিচার হয়নি। আর আমার স্বামী একজন সাধারণ কনস্টেবল, সে এতিম। তার কোনো ভাই নেই, কোনো কিছুই নেই। তারা এভাবে তাকে শাস্তি দিল, নিরীহভাবে তাকে কেন ফাঁসির রায় দেওয়া হলো? তার ওপরের যারা ছিল, তাদের পাঁচ-সাত বছরের জেল হলো। আমি এই রায় মানি না, আমি চাই এর সুষ্ঠু বিচার হোক, সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু একটা রায় দেওয়া হোক।”