ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের ইস্ট জৈন্তিয়া পাহাড়ি জেলায় একটি অবৈধ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুর্গম থাঙ্কসু এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও অন্তত আটজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। খনির ভেতরে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশপ্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় খনিতে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ডিনামাইটের বিস্ফোরণ থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মনিষ কুমার জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে আবারও অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এটি একটি অবৈধ ‘র্যাট-হোল’ খনি, যেখানে অত্যন্ত সরু ও গভীর সুড়ঙ্গ তৈরি করে শ্রমিকরা চরম ঝুঁকি নিয়ে কয়লা উত্তোলন করেন। বিস্ফোরণের ফলে খনির অভ্যন্তরে বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত অধিকাংশ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে অথবা সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধে। খনিটির কোনো নকশা বা ভেতরে কর্মরত শ্রমিকদের সঠিক তালিকা না থাকায় উদ্ধার তৎপরতায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি অবৈধ খনন কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২ লক্ষ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পরিবেশগত ক্ষতি এবং পানি দূষণের ঝুঁকির কারণে ২০১৪ সাল থেকে মেঘালয়ে ‘র্যাট-হোল’ পদ্ধতিতে কয়লা খনন নিষিদ্ধ। তবে, প্রশাসনের নজরদারির অভাবের কারণে এখনো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এই ধরনের অবৈধ খনিতে শ্রমিকরা দৈনিক ১৮ থেকে ২৪ ডলার আয়ের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এর পূর্বেও ২০১৮ সালে মেঘালয়ের একটি ‘র্যাট-হোল’ খনিতে দুর্ঘটনায় ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পরও অবৈধ খনন বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন এবং তদারকি ব্যবস্থার প্রতি জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























