দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দেশ দুটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মাসে দেশব্যাপী সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের সহিংস পদক্ষেপের ঘটনায় মার্কিন প্রতিক্রিয়ার পরই এই আলোচনা শুরু হচ্ছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে যে এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
যদিও বৈঠকের স্থান এবং এর পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আলোচনা পণ্ড হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।
উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই আলোচনাকে।
উভয় দেশ এখনো বিপরীতমুখি অবস্থানে থাকলেও আশা করা হচ্ছে যে, যদি আলোচনা সফল হয়, তাহলে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তারা বলেছে, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দেশটির সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি তাদের আচরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
যদিও ইরান বলেছে যে আলোচনা কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই মতপার্থক্যগুলো কতটা সমাধান হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
খুব শিগগিরই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানের ওপর বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ বা নৌবহর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেখানে একটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এদিকে আক্রমণের জবাবে শক্তি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরাইলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সম্পদে আঘাত করার হুমকি দিয়েছে তারা।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী ‘তাদের আঙুলের ট্রিগারে’ রয়েছে।
শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় যোগ দিতে তিনি এরইমধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পৌঁছেছেন বলে বিবিসি পার্সিয়ানের খবরে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
গত জুনে ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের শেষ দিকে, ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর এটিই হবে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।
ইরান জানিয়েছে যে হামলার পর তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানের বিবাদমান নেতাদের জন্য, এই আলোচনা হতে পারে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে শেষ সুযোগ, যা ইরানের শাসনব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ইরানের বর্তমান সরকার এখনই সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























