ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

গাজার অবরোধ ভাঙতে বিশাল নৌ-বহরের ঘোষণা: আসছে ‘গ্লোবাল সুমুদ’ ফ্লোটিলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং ইসরায়েলি অবরোধ চ্যালেঞ্জ করতে নতুন করে বড় ধরনের সমুদ্র অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা। আগামী বছরের মার্চ মাসে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১০০টি নৌযান এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এক হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের দাবি, গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে এটি হতে যাচ্ছে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বেসামরিক মানবিক হস্তক্ষেপ।

এই মিশনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা জানান, আসন্ন এই বহরে চিকিৎসক, মানবাধিকার কর্মী এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সমুদ্রপথের পাশাপাশি প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর মধ্য দিয়ে একটি বিশাল স্থলপথের কনভয় পরিচালনারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই স্থল অভিযানে হাজার হাজার সমর্থক যুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত অক্টোবর মাসে একই ধরনের একটি অভিযানে বাধার সৃষ্টি করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র প্রায় ৪০টি নৌযান জব্দ করার পাশাপাশি মান্ডলা ম্যান্ডেলা ও প্রখ্যাত জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ প্রায় ৪৫০ জন অ্যাক্টিভিস্টকে আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব উদ্যোগকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করলেও আয়োজকদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাদের লক্ষ্য গাজার ওপর আরোপিত ‘অবৈধ’ অবরোধ ভেঙে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবাধ চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে মানবিক সহায়তার প্রবাহ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অ্যাক্টিভিস্ট সুসান আবদুল্লাহ বলেন, আগের অভিযানে তারা সরাসরি গাজায় পৌঁছাতে না পারলেও বিশ্ববাসীর সংহতির বার্তা ফিলিস্তিনিদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

আসন্ন মিশনেও ইসরায়েলি বাধার প্রবল আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আয়োজকরা তাদের অবস্থানে অনড়। ফিলিস্তিনিদের মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং অবরোধ ভাঙার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতাকে হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা, আহত কর্মীর অবস্থা সংকটাপন্ন

গাজার অবরোধ ভাঙতে বিশাল নৌ-বহরের ঘোষণা: আসছে ‘গ্লোবাল সুমুদ’ ফ্লোটিলা

আপডেট সময় : ১০:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং ইসরায়েলি অবরোধ চ্যালেঞ্জ করতে নতুন করে বড় ধরনের সমুদ্র অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা। আগামী বছরের মার্চ মাসে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১০০টি নৌযান এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এক হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের দাবি, গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে এটি হতে যাচ্ছে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বেসামরিক মানবিক হস্তক্ষেপ।

এই মিশনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা জানান, আসন্ন এই বহরে চিকিৎসক, মানবাধিকার কর্মী এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সমুদ্রপথের পাশাপাশি প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর মধ্য দিয়ে একটি বিশাল স্থলপথের কনভয় পরিচালনারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই স্থল অভিযানে হাজার হাজার সমর্থক যুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত অক্টোবর মাসে একই ধরনের একটি অভিযানে বাধার সৃষ্টি করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র প্রায় ৪০টি নৌযান জব্দ করার পাশাপাশি মান্ডলা ম্যান্ডেলা ও প্রখ্যাত জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ প্রায় ৪৫০ জন অ্যাক্টিভিস্টকে আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব উদ্যোগকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করলেও আয়োজকদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাদের লক্ষ্য গাজার ওপর আরোপিত ‘অবৈধ’ অবরোধ ভেঙে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবাধ চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে মানবিক সহায়তার প্রবাহ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অ্যাক্টিভিস্ট সুসান আবদুল্লাহ বলেন, আগের অভিযানে তারা সরাসরি গাজায় পৌঁছাতে না পারলেও বিশ্ববাসীর সংহতির বার্তা ফিলিস্তিনিদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

আসন্ন মিশনেও ইসরায়েলি বাধার প্রবল আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আয়োজকরা তাদের অবস্থানে অনড়। ফিলিস্তিনিদের মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং অবরোধ ভাঙার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।