বরিশাল-৪ আসনের মেহেন্দিগঞ্জ সরকারি পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে যোগ দিতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সমাবেশের স্থান ও এর আশপাশের এলাকা প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যাওয়ায় এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জামায়াত আমিরের এই সমাবেশ ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে সমাবেশস্থলে।
দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। তাদের প্রত্যাশা, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই সমাবেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দলটির নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই সমাবেশের মাত্র দুই দিন আগে আরসি কলেজ মাঠ ও তার আশপাশ এলাকা হঠাৎ করে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে যায়। বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসানের ছবি ও প্রতীক সম্বলিত এসব ব্যানার ও ফেস্টুন মাঠের চারদিক এবং সমাবেশস্থলের আশপাশের পথে লাগানো হয়েছে। এতে দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে, সেখানে জামায়াতের নয়, বিএনপির কোনো সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিষয়টিকে ‘পায়ে পাড়া দিয়ে সংঘর্ষ লাগাতে আসা’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ। জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল-৪ আসনের মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম ইউসুফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল এমন কাজ করতে পারে না। যেখানে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান আসবেন, সেই মাঠের আশপাশে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের ব্যানার-ফেস্টুন এভাবে টানানো কোন লেভেলের শিষ্টাচার?’ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের উচিৎ ছিল আমাদের দলীয় প্রধানের আগমনের অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা। উল্টো তারা এখানে পায়ে পাড়া দিয়ে আমাদের সাথে ঝামেলা করতে চাচ্ছে। এ আচরণ অগণতান্ত্রিক। এমন দল যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা জনগণের সাথে কেমন আচরণ করবে এটি তার একটি নমুনা।’
এ ব্যাপারে বিএনপির প্রার্থীর একাধিক সমর্থকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
রিপোর্টারের নাম 

























