নির্বাচনী প্রচারণার উত্তপ্ত ময়দানে সাধারণত আক্রমণাত্মক বক্তব্য, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর স্লোগানই বেশি শোনা যায়। তবে এবার ভিন্ন এক চিত্রের দেখা মিলেছে নির্বাচনী এলাকায়। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসির ও আব্বাসের মধ্যকার সৌজন্যবোধ এবং একে অপরকে নিয়ে করা মজার সব মন্তব্য এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। রাজনৈতিক বৈরিতা ছাপিয়ে তাদের এই ব্যক্তিগত খুনশুটি ভোটারদের মাঝে এক নতুন আমেজ ও বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচারণার পথে দুই প্রার্থীর হঠাৎ দেখা হয়ে গেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন এবং কুশল বিনিময় করছেন। একে অপরের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও জনসমক্ষে তাদের এই সাবলীল আচরণ সাধারণ ভোটারদের অবাক করছে। জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তারা একে অপরকে নিয়ে কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করছেন, যা উপস্থিত দর্শকদের হাসির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক আক্রমণ না করে এমন হাস্যরসাত্মক উপায়ে নিজেদের প্রচারণা চালানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সাধারণ ভোটারদের মতে, নির্বাচনের সময় সাধারণত এলাকায় এক ধরনের উত্তেজনা বা ভীতি বিরাজ করে। কিন্তু নাসির ও আব্বাসের এই বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই সেই গুমোট ভাব অনেকটাই কাটিয়ে দিয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় তাদের এই ‘মিষ্টি লড়াই’। অনেকেই বলছেন, রাজনীতিতে আদর্শের লড়াই থাকবেই, কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন সৌজন্যবোধ বজায় রাখা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচয় দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রার্থীদের এমন আচরণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে করে সংঘাতের সম্ভাবনা কমে আসে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ প্রশস্ত হয়। নাসির ও আব্বাসের এই খুনশুটি কেবল বিনোদনই নয়, বরং নির্বাচনী সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কে জয়ী হবেন তা সময় বলে দেবে, তবে প্রচারণার মাঠে এই দুই প্রার্থীর হৃদ্যতা এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















