দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অভিমান জানিয়ে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী একযোগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। প্রতিবাদস্বরূপ, পদত্যাগের ঘোষণার পর তাঁরা একে অপরের সঙ্গে মিষ্টি বিতরণ করে প্রতীকীভাবে ‘মিষ্টি মুখ’ করেন।
বৃহস্পতিবার (নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি জানা থাকে) ঈশ্বরদী পৌর শহরের কাচারীপাড়া মাঠে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ও পৌর যুবদল, উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল এবং উপজেলা ছাত্রদলের অন্তত ৬৪ জন পদধারী নেতাসহ কয়েকশ’ কর্মী-সমর্থক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল পারভেজ বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, কারাবরণও করেছি। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, তাকে (জাকারিয়া পিন্টু) ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এতে আমরা চরমভাবে হতাশ।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “জাকারিয়া পিন্টু বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার পক্ষে কাজ করার কারণে আমাদের বারবার বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও আল্টিমেটাম এসেছে। তাই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হয়ে আমরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।”
এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন, রওশন আলম পাপ্পু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ফয়সাল আহমেদ ফারুক, রুমন আলী, এনায়েত আলী, আমিনুল ইসলাম জনি, দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল খান, সলিমপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশ, মুলাডুলি ইউনিয়নের আশিকুল ইসলাম আশিক, জসিম হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের মাহমুদুল ইসলাম শাওন, ওমর শেখ শান্ত এবং সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোহাম্মাদ আরাফাত ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে বক্তব্য প্রদান করেন।
তাঁরা বলেন, “নির্বাচনের প্রাক্কালে এভাবে অবৈধভাবে বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে আমাদের অপমান করা হচ্ছে। তাই প্রতিবাদ হিসেবে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক এবং নির্বাচনের পর দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকব।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণসংযোগে ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান বাবলু বলেন, “রাজনীতিতে মান-অভিমান একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু দলকে ভালোবাসলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া অপরিহার্য। ভোটের আগে এই ধরনের পদত্যাগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও তা দলের জন্য ইতিবাচক নয়।”
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন গণপদত্যাগ বিএনপির সাংগঠনিক দৃঢ়তাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আসনটির নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























