ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাউজানে অস্ত্রধারীর গুলিতে আহত রিয়াদের মৃত্যু, চাঞ্চল্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গত বছরের ২৫ অক্টোবর একদল অস্ত্রধারীর গুলিতে গুরুতর আহত হওয়া মুহাম্মদ রিয়াদ (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দীর্ঘ ৩ মাস ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনাটি এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

নিহত রিয়াদ রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং গত বছরের ২৫ অক্টোবর আলোচিত যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম (৪৫) হত্যাকাণ্ডের সময় তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন। সেদিন আলমগীর আলম ঘটনাস্থলেই খুন হয়েছিলেন এবং রিয়াদ পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে রিয়াদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং তিনি বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজানের চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আলমগীর আলম আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে একদল অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কায়কোবাদ জামে মসজিদের কবরস্থানে লুকিয়ে থাকা আটজন অস্ত্রধারী আলমগীরের উপর এই হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই আলমগীর আলম মারা যান। অস্ত্রধারীরা তাকে হত্যার পর রাঙামাটি সড়ক দিয়ে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পুলিশ আলমগীরের শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন খুঁজে পেয়েছিল। সেই সময় রিয়াদের পিঠেও একাধিক গুলি লাগে।

এই ঘটনাটি ছিল রাউজানে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি ধারাবাহিকতার অংশ। এর মাত্র ১৮ দিন আগে, গত ৭ অক্টোবর, রাউজান উপজেলার বিএনপি কর্মী ও হারবাল ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে (৫২) হাটহাজারীর মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কাছে চলন্ত গাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর আলমগীর আলম হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ, এ বছরের ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কাছে সিকদার পাড়া গ্রামে জানে আলম (৪৮) নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জানে আলম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত কারণ বা প্রকৃত আসামিদের কাউকেই পুলিশ এখনো আইনের আওতায় আনতে পারেনি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গত বছরের ২৫ অক্টোবর অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী আলমগীর আলমের আত্মীয় রিয়াদ ৩ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন। তার পিঠে একাধিক গুলি লেগেছিল। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে এসেছে। তবে পুলিশ প্রকৃত হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।” দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অস্ত্রধারীদের এখনো ধরা যায়নি, যা এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তর ইরাকের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে বিস্ফোরণ

রাউজানে অস্ত্রধারীর গুলিতে আহত রিয়াদের মৃত্যু, চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গত বছরের ২৫ অক্টোবর একদল অস্ত্রধারীর গুলিতে গুরুতর আহত হওয়া মুহাম্মদ রিয়াদ (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দীর্ঘ ৩ মাস ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনাটি এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

নিহত রিয়াদ রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং গত বছরের ২৫ অক্টোবর আলোচিত যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম (৪৫) হত্যাকাণ্ডের সময় তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন। সেদিন আলমগীর আলম ঘটনাস্থলেই খুন হয়েছিলেন এবং রিয়াদ পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে রিয়াদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং তিনি বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজানের চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আলমগীর আলম আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে একদল অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কায়কোবাদ জামে মসজিদের কবরস্থানে লুকিয়ে থাকা আটজন অস্ত্রধারী আলমগীরের উপর এই হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই আলমগীর আলম মারা যান। অস্ত্রধারীরা তাকে হত্যার পর রাঙামাটি সড়ক দিয়ে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পুলিশ আলমগীরের শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন খুঁজে পেয়েছিল। সেই সময় রিয়াদের পিঠেও একাধিক গুলি লাগে।

এই ঘটনাটি ছিল রাউজানে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি ধারাবাহিকতার অংশ। এর মাত্র ১৮ দিন আগে, গত ৭ অক্টোবর, রাউজান উপজেলার বিএনপি কর্মী ও হারবাল ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে (৫২) হাটহাজারীর মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কাছে চলন্ত গাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর আলমগীর আলম হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ, এ বছরের ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কাছে সিকদার পাড়া গ্রামে জানে আলম (৪৮) নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জানে আলম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত কারণ বা প্রকৃত আসামিদের কাউকেই পুলিশ এখনো আইনের আওতায় আনতে পারেনি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গত বছরের ২৫ অক্টোবর অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী আলমগীর আলমের আত্মীয় রিয়াদ ৩ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন। তার পিঠে একাধিক গুলি লেগেছিল। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে এসেছে। তবে পুলিশ প্রকৃত হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।” দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অস্ত্রধারীদের এখনো ধরা যায়নি, যা এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে।