চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের একটি পরিত্যক্ত গুদাম থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর নামফলকটি উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ক্লাবের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ নিচতলার একটি গুদামঘর থেকে ধুলোবালি ও পরিত্যক্ত জিনিসের স্তূপ সরিয়ে এই দুর্লভ ফলকটি উদ্ধার করেন। এই ঘটনাটি চট্টগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়াম এবং ইনডোর মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। উদ্ধারকৃত ফলকটিতে খোদাই করে লেখা রয়েছে— ‘চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়াম এবং ইনডোর মিনি স্টেডিয়াম, বাংলাদেশের মহামান্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক আজ ১১ই ফাল্গুন, ১৩৮৪ বাংলা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হইল।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ ঘরানার সাংবাদিকদের একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু হয়। সেই সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নামধারী কিছু সংবাদকর্মী জিয়াউর রহমানের এই ভিত্তিপ্রস্তরটি উপড়ে ফেলেন। এরপর থেকে এটি ক্লাবের নিচতলার একটি অন্ধকার গুদামে অন্যান্য ভাঙাচোরা আসবাবপত্রের আড়ালে পড়ে ছিল। গত ৫ আগস্টের পর প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর থেকেই ঐতিহাসিক এই ফলকটির সন্ধান চালানো হচ্ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার ক্লাবের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল খুঁজতে গিয়ে গুদামের এক কোণে এর হদিস মেলে।
ফলকটি উদ্ধারের সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা ফলকটি যথাযথভাবে পরিষ্কার করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি গণমাধ্যমকে বলেন, “বিগত দেড় দশকে সাংবাদিকতার আড়ালে একদল মানুষ প্রতিষ্ঠানটিকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছিল। তারা রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করতে এবং অনৈতিক সুবিধা নিতে দেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির স্মৃতি মুছে ফেলার মতো হীন কাজে লিপ্ত হয়েছিল। এটি সাংবাদিকতা পেশার জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও লজ্জাজনক একটি উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, “ইতিহাসকে কখনও মুছে ফেলা যায় না। সত্য আজ উন্মোচিত হয়েছে। যারা এই ঐতিহাসিক ফলকটি সরিয়ে দিয়েছিল, তারা মূলত দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও প্রেস ক্লাবের শেকড়কেই অস্বীকার করতে চেয়েছিল।”
ক্লাব নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্ধারকৃত এই ভিত্তিপ্রস্তরটি পুনরায় যথাস্থানে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইতিহাসের একটি হারানো অধ্যায় পুনরুজ্জীবিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 





















