ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগ: নারায়ণগঞ্জের দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিইসি’র কাছে বিএনপির প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী জেলা পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে নির্বাচনী কার্যক্রমে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্রে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছেন।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এবং ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

মুফতি মনির কাসেমীর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ফতুল্লা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়ন এবং সদর থানার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যক্রম চলছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না। তার দাবি, উল্লেখিত দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি পক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করছেন। একজন বিত্তশালী ও প্রভাবশালী শিল্পপতি প্রার্থী এবং তার কর্মীদের প্রতি তারা প্রকাশ্যেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি, উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিপন্থি এবং নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও অভিযোগপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “আমরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছি। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসন ভাগ করে আমরা কাজ করছি এবং আমার দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর এলাকা। ফতুল্লায় আমার যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া, কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগও আমাদের নেই।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে একই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। তবে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে এলেন জাইমা রহমান

নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগ: নারায়ণগঞ্জের দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিইসি’র কাছে বিএনপির প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী জেলা পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে নির্বাচনী কার্যক্রমে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্রে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছেন।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এবং ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

মুফতি মনির কাসেমীর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ফতুল্লা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়ন এবং সদর থানার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যক্রম চলছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না। তার দাবি, উল্লেখিত দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি পক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করছেন। একজন বিত্তশালী ও প্রভাবশালী শিল্পপতি প্রার্থী এবং তার কর্মীদের প্রতি তারা প্রকাশ্যেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি, উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিপন্থি এবং নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও অভিযোগপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “আমরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছি। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসন ভাগ করে আমরা কাজ করছি এবং আমার দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর এলাকা। ফতুল্লায় আমার যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া, কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগও আমাদের নেই।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে একই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। তবে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।