ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নিরপেক্ষ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহী: মির্জা ফখরুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় এক পথসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহী। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে দেশের জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বৃহস্পতিবার আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় মির্জা ফখরুল জানান, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, এবং যেটিতে অংশ নিয়েছিল তার ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলেই আজ জনগণের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই এবং জোরজবরদস্তি বা রাতের ভোট আর হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পথসভায় বিএনপি মহাসচিব তার দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও তেল কিনতে পারবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এর মাধ্যমে সেচ ও সার ক্রয়ের সুবিধা থাকবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়াও, মা-বোনদের জন্য এনজিওর সব কিস্তি এক বছরের জন্য মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আগামী দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির অঙ্গীকারও করেন মির্জা ফখরুল।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাট পাকা করা হবে এবং একটি এলএসডি গোডাউন নির্মাণ করা হবে। তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, নারীদের জন্য নার্সিং ট্রেনিং এবং প্রযুক্তিগত ডাটা এন্ট্রি ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই মাসে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করতে পারে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক হিমাগার ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে, এরপর বিমানবন্দর চালু করা কঠিন হবে না। তবে সবার আগে তিনি উন্নতমানের একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে চান, যাতে এলাকার মানুষ এখানেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি হিন্দু-মুসলমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার আহ্বান জানান। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জনগণের আমানতের খেয়ানত করা হবে না।

পথসভায় জামায়াত ইসলামী প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখে দিতে চেয়েছিল। তারা কখনোই দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না। তিনি আরও বলেন, স্লোগানের রাজনীতি শেষ, এবার কাজের রাজনীতি করতে হবে। তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আবারও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে এলেন জাইমা রহমান

নিরপেক্ষ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহী: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৫:০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় এক পথসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহী। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে দেশের জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বৃহস্পতিবার আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় মির্জা ফখরুল জানান, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, এবং যেটিতে অংশ নিয়েছিল তার ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলেই আজ জনগণের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই এবং জোরজবরদস্তি বা রাতের ভোট আর হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পথসভায় বিএনপি মহাসচিব তার দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও তেল কিনতে পারবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এর মাধ্যমে সেচ ও সার ক্রয়ের সুবিধা থাকবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়াও, মা-বোনদের জন্য এনজিওর সব কিস্তি এক বছরের জন্য মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আগামী দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির অঙ্গীকারও করেন মির্জা ফখরুল।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাট পাকা করা হবে এবং একটি এলএসডি গোডাউন নির্মাণ করা হবে। তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, নারীদের জন্য নার্সিং ট্রেনিং এবং প্রযুক্তিগত ডাটা এন্ট্রি ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই মাসে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করতে পারে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক হিমাগার ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে, এরপর বিমানবন্দর চালু করা কঠিন হবে না। তবে সবার আগে তিনি উন্নতমানের একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে চান, যাতে এলাকার মানুষ এখানেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি হিন্দু-মুসলমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার আহ্বান জানান। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জনগণের আমানতের খেয়ানত করা হবে না।

পথসভায় জামায়াত ইসলামী প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখে দিতে চেয়েছিল। তারা কখনোই দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না। তিনি আরও বলেন, স্লোগানের রাজনীতি শেষ, এবার কাজের রাজনীতি করতে হবে। তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আবারও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ করেন।