ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

খুলনা-৫: অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের সক্রিয়তা চাইলেন গোলাম পরওয়ার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ১১দলীয় নির্বাচনি জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী সাত দিনের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাবের আলহাজ লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নিজস্ব নির্বাচনি অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার অভিযোগ, নির্বাচনের এখনো এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ঢালছে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কালো টাকার এই দাপট রাজনীতিকে কলুষিত করছে এবং প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রতিটি থানায় সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা পরিচিত সহিংসদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, খুলনা-৫ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি কেন্দ্রকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের ভয় দেখানো, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও আগাম ব্যালট সরানোর আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মনিটরিং সংস্থার কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপ্যাল গাউসুল আযম হাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের এবং আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে এলেন জাইমা রহমান

খুলনা-৫: অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের সক্রিয়তা চাইলেন গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ১১দলীয় নির্বাচনি জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী সাত দিনের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাবের আলহাজ লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নিজস্ব নির্বাচনি অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার অভিযোগ, নির্বাচনের এখনো এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ঢালছে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কালো টাকার এই দাপট রাজনীতিকে কলুষিত করছে এবং প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রতিটি থানায় সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা পরিচিত সহিংসদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, খুলনা-৫ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি কেন্দ্রকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের ভয় দেখানো, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও আগাম ব্যালট সরানোর আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মনিটরিং সংস্থার কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপ্যাল গাউসুল আযম হাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের এবং আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম প্রমুখ।