বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের কোনো প্রার্থী ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি বা নারী নির্যাতনকারী নন বলেও তিনি জোর দাবি করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না। সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।” তিনি জানান, জুলাই সনদ এবং সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই ১১ দল একত্রিত হয়েছে। এই জোটের প্রার্থীরা যাচাই-বাছাই করে মনোনীত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, আগামীতে তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এটি জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন এবং সঠিক পথে উত্তরণের নির্বাচন। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনকে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির পথ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানা অপরিবর্তিত রেখে একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় তাদের। তিনি সিঙ্গাপুর বা কানাডার মতো নয়, বরং একটি ‘উত্তম বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখান, যেখানে প্রতিটি নাগরিক গর্বের সাথে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেবে।
তিনি আরও বলেন, এমন বাংলাদেশ তারা গড়তে চান যেখানে শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং মায়েরা ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান, যা দেশ গঠনে সক্ষম লড়াকু সৈনিক তৈরি করবে। যুবকদের বেকার ভাতার পরিবর্তে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অপরাধ করলে সবার সমান সাজা হবে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এমন বিচারব্যবস্থা তারা চান, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ বা দেশের প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি একই অপরাধ করলে একই শাস্তির আওতায় আসবেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণ সকল ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ফিরে পাবে এবং সমাজে কোনো অসভ্যতা বা অসম্মানজনক আচরণ থাকবে না। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান কর্মজীবী মা ও বোনদের জন্য কর্মস্থলে বেবি কেয়ার ও ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার এবং শিল্প ও ঘন এলাকায় তাদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে যারা সেবা দিয়ে যাবে, তাদের মূল্যায়ন রাষ্ট্র করবে না তা হতে পারে না। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি না করে, তাদের দাবি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূরণ করার নীতিমালা নিয়ে দেশ গড়ার কথা বলেন তিনি।
জনসভায় তিনি প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ এবং দ্বিতীয় ভোট দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’য় দেওয়ার আহ্বান জানান। জনসভায় তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় গোদাগাড়ী-তানোরের নেতাকর্মীরা ছাড়াও নারী কর্মীদের জন্য বসার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















