একসময় ঝালকাঠিকে নিরঙ্কুশভাবে ‘ধানের শীষের ঘাঁটি’ হিসেবে ধরা হতো। এবারের নির্বাচনি সমীকরণে সেই চিত্র আর একমাত্রিক নেই। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, নতুন জোটের মাঠে নামা এবং তরুণ ভোটারদের ভূমিকা—সব মিলিয়ে ঝালকাঠির দুই আসনে ভোটের হিসাব নতুন করে লিখছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। ফলে বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতেই বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে জামায়াত।
সাধারণ ভোটারদের ধারণা, ঝালকাঠি এখন পর্যন্ত ধানের শীষের ঘাঁটি হলেও এবারের নির্বাচনে সেই ঘাঁটিতে বড় ফ্যাক্টর হবে দাঁড়িপাল্লা। এ ছাড়া দুই আসনেই বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রভাবশালী অন্তত চার নেতা এখনো দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামেননি। তাদের কেউ কেউ ঢাকায় অবস্থান করে দলের ভেতরে ভিন্ন হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। ফলে তাদের অনুসারীদের ভোট ধানের শীষে যাবে কী না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে জেলার প্রায় ছয় লাখ ভোটারের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তরুণ ভোটার। এই তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঠালিয়া)
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক। ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে ইব্রাহীম আল হাদীসহ মোট ১০ প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল পরাজিত হলেও তিনি বরাবরই রাজনীতিতে সক্রিয়। হামলা-মামলা ও কারাবরণসহ দীর্ঘ সময় রাজপথে ছিলেন তিনি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই বিএনপি নেতা বলেন, রাজাপুর ও কাঠালিয়া নদীভাঙনকবলিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, হাসপাতাল স্থাপন, সড়ক উন্নয়ন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. ফয়জুল হক দিন-রাত প্রচার চালাচ্ছেন। তার সঙ্গে মাঠে রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. মাহামুদা মিতু। ফয়জুল হক আমার দেশকে বলেন, জনগণ হামলাবাজ, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজ রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লাই বিজয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















