ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জ-৫: অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি, চমক দেখাতে চায় জামায়াত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। এই আসনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠের সমীকরণে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ মিটে যাওয়ায় দলটি বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সুসংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে বড় চমক দেখাতে পারে জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩৬ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। ২২টি ইউনিয়ন ও ১৭০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই বিশাল নির্বাচনী এলাকায় নারী ও তরুণ ভোটারদের রায়ই জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রার্থীদের প্রচারণায় তাই নারী ও নতুন ভোটারদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান ইস্যু। এসব বিষয়কে সামনে রেখে বিএনপি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ‘ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে শুরুতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তিনি বর্তমানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন। মিজান চৌধুরী জানিয়েছেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ। কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনও দাবি করেছেন, সুনামগঞ্জ-৫ বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় তারা বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।

এদিকে, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে দিনরাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জামায়াত নেতাদের দাবি, তাদের সুসংগঠিত সাংগঠনিক কাঠামো এবং নীরব ভোটারদের সমর্থন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এবং নারী ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে যাবে বলে তারা আশাবাদী।

বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) এবং এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম)। তবে মূল আলোচনা ও লড়াই এখন ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাতক ও দোয়ারাবাজারের এই নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপির ঐক্যবদ্ধ শক্তি যেমন বড় ফ্যাক্টর, তেমনি জামায়াতের নীরব কৌশল ও সুসংগঠিত ভোট ব্যাংকও উপেক্ষা করার মতো নয়। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কার পক্ষে যায়, তা দেখতে এখন গোটা জেলার মানুষের চোখ এই আসনের দিকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভরা মৌসুমেও মেঘনায় মিলছে না ইলিশ, চরম হতাশায় ভোলার জেলেরা

সুনামগঞ্জ-৫: অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি, চমক দেখাতে চায় জামায়াত

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। এই আসনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠের সমীকরণে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ মিটে যাওয়ায় দলটি বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সুসংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে বড় চমক দেখাতে পারে জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩৬ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। ২২টি ইউনিয়ন ও ১৭০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই বিশাল নির্বাচনী এলাকায় নারী ও তরুণ ভোটারদের রায়ই জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রার্থীদের প্রচারণায় তাই নারী ও নতুন ভোটারদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান ইস্যু। এসব বিষয়কে সামনে রেখে বিএনপি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ‘ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে শুরুতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তিনি বর্তমানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন। মিজান চৌধুরী জানিয়েছেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ। কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনও দাবি করেছেন, সুনামগঞ্জ-৫ বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় তারা বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।

এদিকে, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে দিনরাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জামায়াত নেতাদের দাবি, তাদের সুসংগঠিত সাংগঠনিক কাঠামো এবং নীরব ভোটারদের সমর্থন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এবং নারী ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে যাবে বলে তারা আশাবাদী।

বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) এবং এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম)। তবে মূল আলোচনা ও লড়াই এখন ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাতক ও দোয়ারাবাজারের এই নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপির ঐক্যবদ্ধ শক্তি যেমন বড় ফ্যাক্টর, তেমনি জামায়াতের নীরব কৌশল ও সুসংগঠিত ভোট ব্যাংকও উপেক্ষা করার মতো নয়। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কার পক্ষে যায়, তা দেখতে এখন গোটা জেলার মানুষের চোখ এই আসনের দিকে।