নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে মুস্তাকিম (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। বুধবার (২০ নভেম্বর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হানিফ মাস্টার এবং এরশাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এরই জেরে বুধবার ভোরে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের সমর্থকদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এসময় বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) নামে তিনজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সন্তান হারিয়ে দিশেহারা মা শাহানা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সকালে আমার ছেলেটি কেবল ঘর থেকে বের হয়ে আঙিনায় দাঁড়িয়েছিল। আমরা কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নই, তবুও কেন আমার বুক খালি করা হলো? আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, মুস্তাকিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরের বাম পাশে গুলির গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গুলিটি একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























