কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে ১৯৭১ সালের মতো পরাধীনতার শঙ্কা দেখা দেবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জামায়াত সমর্থিত শাসকরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং পাকিস্তানি শাসন আমলের মতো দুঃশাসন ফিরে আসতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিঠামইনের ঢাকী ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “জামায়াত যদি কোনো কারণে দেশে ক্ষমতায় আসে, তবে এই দেশটা পাকিস্তান হবে। তারা আবার ১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে, দেশটাকে পরাধীন বানাবে।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় আসলে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে পাকিস্তানি মিলিটারিরা এসে বসে থাকবে। এই ২০ জন মিলিটারি আর জামায়াতের রাজাকার-আলবদররা মিলে এই দেশটাকে আবার পরাধীন করবে। তখন আপনারা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারবেন না।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আল্লাহর দোহাই লাগে, আমারে ভোট দিয়েন না- আমি আপনাদেরকে না করি। কিন্তু এদেরকে ভোট দিয়ে দেশটাকে পাকিস্তান বানায়া আমার মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট কইরেন না। এদের চেয়ে খারাপ এই পৃথিবীতে কেউ জন্মগ্রহণ করে নেই।”
জামায়াতের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের জন্য অভিধানে তিনটি শব্দ এসেছে – বেতমিজ, বেয়াদব এবং বেইমান। তিনি ডাকসুর ভিপি সাদেক কাউয়ুমের তারেক রহমান সম্পর্কে করা মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “ও তো তারেক রহমানের সন্তানের সমান।”
ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, “এদের সঙ্গে ইলেকশন করতে হচ্ছে আমাকে। কী ইলেকশন হবে! ভোট যদি হয়, ১০ শতাংশ ভোট পাইব কিনা সন্দেহ। কয় শতাংশ ভোট পাইব, কে তাদের কর্মী, কে দিবে তাদের ভোট?”
তিনি জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার একটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, “প্রথমে কতগুলো ভদ্র মহিলারে ছাড়ছে বোরকা পরিয়ে। কানের মধ্যে দুল, গলার মধ্যে চেইন, হাতে কিছু বিস্কুট, কিছু চকলেট বাচ্চাদের দিছে। আর মায়েদের গিয়ে বলছে- ভোট যদি দেন, তাহলে বেহেশতের একটা টিকিট পাইবেন। পরে যখন সবাই কইছে, কিরে ব্যাটা, বেহেশতের টিকিট তুই দেয়ার কে রে? বেহেশতের টিকিট দেয়ার মালিক হলো আল্লাহ।”
সবশেষে, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ভোটারদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম রেখাসহ বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























