ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী অভিযান: ২৫৫ জনের প্রাণহানি, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে তীব্র দমন-পীড়ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গত তিন দিন ধরে চলা ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, এই অভিযানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অন্তত ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে। পাশাপাশি, দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। সন্ত্রাসী হামলা এবং পরবর্তী সামরিক অভিযানের ফলে শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই ভয়াবহ ঘটনার সামগ্রিক চিত্রকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে সমন্বিত হামলা চালায়। জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক এসব হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনার পর প্রদেশজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে সেনা অভিযান শুরু হয়।

সপ্তাহজুড়ে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর আরও হামলার খবর পাওয়া যায়। নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এই বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

হামলার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে একটি ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপে, পাকিস্তান সরকারের তথ্যানুসারে ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত ৯২ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর (Inter-Services Public Relations) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। আইএসপিআর-এর মতে, এই হামলাগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। তবে, তীব্র সংঘর্ষ এবং দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে সেই সময়কালে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। এই অভিযান বেলুচিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দৌড়ে কারা: আলোচনায় চার বর্ষীয়ান নেতা

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী অভিযান: ২৫৫ জনের প্রাণহানি, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে তীব্র দমন-পীড়ন

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গত তিন দিন ধরে চলা ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, এই অভিযানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অন্তত ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে। পাশাপাশি, দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। সন্ত্রাসী হামলা এবং পরবর্তী সামরিক অভিযানের ফলে শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই ভয়াবহ ঘটনার সামগ্রিক চিত্রকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে সমন্বিত হামলা চালায়। জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক এসব হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনার পর প্রদেশজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে সেনা অভিযান শুরু হয়।

সপ্তাহজুড়ে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর আরও হামলার খবর পাওয়া যায়। নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এই বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

হামলার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে একটি ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপে, পাকিস্তান সরকারের তথ্যানুসারে ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত ৯২ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর (Inter-Services Public Relations) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। আইএসপিআর-এর মতে, এই হামলাগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। তবে, তীব্র সংঘর্ষ এবং দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে সেই সময়কালে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। এই অভিযান বেলুচিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।