ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী: স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী বাজারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক নির্বাচনী জনসভায় এই যোগদান সম্পন্ন হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল হক ভুলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ছৈয়দ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ। এছাড়াও পালংখালী ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উখিয়া–টেকনাফ-৪ সংসদীয় আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীর হাতে ফুল দিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন।

নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করে আসছে। নৈতিকতা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমেই সেই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক শান্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নতুন যোগদানকারী নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার দ্বারা তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়েছেন। পালংখালী ইউনিয়নে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও চাপ প্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এসব কারণেই তারা নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিমুক্ত রাজনীতি চায়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই মানুষ স্বেচ্ছায় জামায়াতে ইসলামে যোগ দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে দাবি করেছেন, “যারা জামায়াতে যোগদান করেছে, তারা কেউই বিএনপির নেতাকর্মী নয়।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হোঁচট: স্লটের শততম ম্যাচে হার, পিছিয়ে অলরেডরা

উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী: স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী বাজারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক নির্বাচনী জনসভায় এই যোগদান সম্পন্ন হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল হক ভুলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ছৈয়দ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ। এছাড়াও পালংখালী ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উখিয়া–টেকনাফ-৪ সংসদীয় আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীর হাতে ফুল দিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন।

নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করে আসছে। নৈতিকতা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমেই সেই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক শান্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নতুন যোগদানকারী নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার দ্বারা তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়েছেন। পালংখালী ইউনিয়নে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও চাপ প্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এসব কারণেই তারা নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিমুক্ত রাজনীতি চায়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই মানুষ স্বেচ্ছায় জামায়াতে ইসলামে যোগ দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে দাবি করেছেন, “যারা জামায়াতে যোগদান করেছে, তারা কেউই বিএনপির নেতাকর্মী নয়।”