ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি স্বাক্ষর: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি (ডিইটিটিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের নিবিড় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহযোগিতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকর কূটনীতির ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।

জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখে সম্পাদিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসাথে এটি উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ও সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ইফতার আয়োজন: বিশৃঙ্খলা ও খাবার সংকটে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি স্বাক্ষর: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি (ডিইটিটিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের নিবিড় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহযোগিতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকর কূটনীতির ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।

জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখে সম্পাদিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসাথে এটি উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ও সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।