ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

এনবিআর বিভাজন নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব বাস্তবায়ন নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের সরকারি উদ্যোগ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিভাগ দুটি গঠনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের বিষয়টি অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন দুটি বিভাগ গঠনের জন্য ‘রুলস অব বিজনেস’ ও ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। নিকার সভার পরপরই সচিব কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও দুবার তা স্থগিত করা হয়। গত সপ্তাহে সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এনবিআর সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। দেশে বর্তমানে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রশাসন একটি নতুন সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের মতো একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে বলে এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রশাসন থেকে পাওয়া যায়নি। নানা অজুহাতে পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা উদ্যোগ নিলে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে, তবে তাতেও পরবর্তীকালে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে, এই সরকারের মেয়াদে এনবিআর বিলুপ্তির মাধ্যমে পৃথক দুটি বিভাগ গঠনের বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে না বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তা না হওয়াটা হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দুটি বিভাগ গঠিত হবে বলে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বিভিন্ন সময়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। গত ৬ জানুয়ারি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, জানুয়ারি বা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এনবিআর ভেঙে দুটি বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একটি ছোট কাজ বাকি আছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এটি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সেই ‘ছোট কাজ’ এখনও শেষ হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নির্বাচনের আগে বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার এই নীরবতায় এক ধরনের হতাশা ফুটে উঠেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারির পর এনবিআর চেয়ারম্যানকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি, কলমবিরতি, অবস্থান ধর্মঘট, সেবা কার্যক্রম বন্ধ এবং ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির মতো নানা প্রতিবাদের সম্মুখীন হতে হয়। ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এসব কর্মসূচির কারণে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। আন্দোলনের ফলে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ, অবিশ্বাস ও আস্থার সংকট দেখা দেয়। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে সেনা, র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনে ‘সহায়তা’র অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় এবং অনেককে বদলি করা হয়। সরকার আন্দোলনকারীদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানালেও তারা অনড় থাকেন। বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রম চলাকালে এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা তৈরি হয় এবং ব্যবসায়ীরা তাদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। পরবর্তীকালে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ জুন রাতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। এরপর আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতি বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু হয়। এনবিআর বিলুপ্ত করে বিভাগ গঠনে অধ্যাদেশ জারি নিয়ে এত ঘটনা ঘটার পরও শেষ পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব বাস্তবায়ন নামে দুটি বিভাগ গঠনের জন্য গত বছরের ১২ মে সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। তবে, এই অধ্যাদেশ কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা ছিল।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে কিনা, তা নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তারা মনে করছেন, পরবর্তী সরকারের ভিন্ন নীতি থাকতে পারে এবং তারা তাদের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, এনবিআর সংস্কার ও বিভাগ গঠনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সহ দাতা সংস্থাগুলোর চাপ রয়েছে এবং আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত থাকায় শেষ পর্যন্ত নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ অংশীজনরা রাজস্ব কাঠামো সংস্কারে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

এর আগে, ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের আমলেও এনবিআরের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং সে সময়ও একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, কিন্তু সেটিও কার্যকর করা যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

এনবিআর বিভাজন নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় : ০২:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব বাস্তবায়ন নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের সরকারি উদ্যোগ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিভাগ দুটি গঠনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের বিষয়টি অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন দুটি বিভাগ গঠনের জন্য ‘রুলস অব বিজনেস’ ও ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। নিকার সভার পরপরই সচিব কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও দুবার তা স্থগিত করা হয়। গত সপ্তাহে সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এনবিআর সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। দেশে বর্তমানে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রশাসন একটি নতুন সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের মতো একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে বলে এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রশাসন থেকে পাওয়া যায়নি। নানা অজুহাতে পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা উদ্যোগ নিলে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে, তবে তাতেও পরবর্তীকালে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে, এই সরকারের মেয়াদে এনবিআর বিলুপ্তির মাধ্যমে পৃথক দুটি বিভাগ গঠনের বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে না বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তা না হওয়াটা হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দুটি বিভাগ গঠিত হবে বলে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বিভিন্ন সময়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। গত ৬ জানুয়ারি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, জানুয়ারি বা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এনবিআর ভেঙে দুটি বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একটি ছোট কাজ বাকি আছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এটি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সেই ‘ছোট কাজ’ এখনও শেষ হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নির্বাচনের আগে বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার এই নীরবতায় এক ধরনের হতাশা ফুটে উঠেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারির পর এনবিআর চেয়ারম্যানকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি, কলমবিরতি, অবস্থান ধর্মঘট, সেবা কার্যক্রম বন্ধ এবং ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির মতো নানা প্রতিবাদের সম্মুখীন হতে হয়। ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এসব কর্মসূচির কারণে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। আন্দোলনের ফলে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ, অবিশ্বাস ও আস্থার সংকট দেখা দেয়। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে সেনা, র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনে ‘সহায়তা’র অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় এবং অনেককে বদলি করা হয়। সরকার আন্দোলনকারীদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানালেও তারা অনড় থাকেন। বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রম চলাকালে এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা তৈরি হয় এবং ব্যবসায়ীরা তাদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। পরবর্তীকালে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ জুন রাতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। এরপর আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতি বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু হয়। এনবিআর বিলুপ্ত করে বিভাগ গঠনে অধ্যাদেশ জারি নিয়ে এত ঘটনা ঘটার পরও শেষ পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব বাস্তবায়ন নামে দুটি বিভাগ গঠনের জন্য গত বছরের ১২ মে সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। তবে, এই অধ্যাদেশ কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা ছিল।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে কিনা, তা নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তারা মনে করছেন, পরবর্তী সরকারের ভিন্ন নীতি থাকতে পারে এবং তারা তাদের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, এনবিআর সংস্কার ও বিভাগ গঠনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সহ দাতা সংস্থাগুলোর চাপ রয়েছে এবং আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত থাকায় শেষ পর্যন্ত নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ অংশীজনরা রাজস্ব কাঠামো সংস্কারে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

এর আগে, ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের আমলেও এনবিআরের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং সে সময়ও একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, কিন্তু সেটিও কার্যকর করা যায়নি।