ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও স্থায়ী কমিশন গঠনের জোর দাবি: গোলটেবিল বৈঠক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে ‘নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা’ শীর্ষক এক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন, শিক্ষা নীতি ও কারিকুলাম সংস্কার এবং জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাখাতের অগ্রাধিকার, নৈতিক ও টেকসই শিক্ষা কাঠামো তৈরি এবং একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, মানসুরুল হক, প্রিন্সিপাল নূরে আলম তালুকদার, আরিফুল ইসলাম জিয়া, বেলাল আহমেদ, আনোয়ার হাবিব কাজল, মো. খলিলুর রহমান এবং মিজ মুস্তাকিমা ইসলাম মীমসহ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আলোচকরা বলেন, সুশিক্ষাই একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান শিক্ষানীতি ও শিক্ষা কারিকুলামে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই শিক্ষা কমিশন গঠন অগ্রাধিকার পেলেও, সরকার একাধিক কমিশন গঠন করলেও এখনো পর্যন্ত একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন না করা দুঃখজনক।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, দেশকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ রাখা আবশ্যক। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন এবং একটি সুদৃঢ় ও স্থায়ী শিক্ষা নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।

প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম তাঁর বক্তব্যে মন্তব্য করেন, অতীতে বিশেষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক কারণে শিক্ষা কমিশন গঠন সম্ভব হয়নি। তিনি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দ্রুত একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা থেকে উত্তরণে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে একটি উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সুধীজনরা শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। আয়োজকরা জানান, বৈঠকে উত্থাপিত সকল প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে সেগুলো আসন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও স্থায়ী কমিশন গঠনের জোর দাবি: গোলটেবিল বৈঠক

আপডেট সময় : ০৮:০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে ‘নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা’ শীর্ষক এক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন, শিক্ষা নীতি ও কারিকুলাম সংস্কার এবং জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাখাতের অগ্রাধিকার, নৈতিক ও টেকসই শিক্ষা কাঠামো তৈরি এবং একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, মানসুরুল হক, প্রিন্সিপাল নূরে আলম তালুকদার, আরিফুল ইসলাম জিয়া, বেলাল আহমেদ, আনোয়ার হাবিব কাজল, মো. খলিলুর রহমান এবং মিজ মুস্তাকিমা ইসলাম মীমসহ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আলোচকরা বলেন, সুশিক্ষাই একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান শিক্ষানীতি ও শিক্ষা কারিকুলামে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই শিক্ষা কমিশন গঠন অগ্রাধিকার পেলেও, সরকার একাধিক কমিশন গঠন করলেও এখনো পর্যন্ত একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন না করা দুঃখজনক।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, দেশকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ রাখা আবশ্যক। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন এবং একটি সুদৃঢ় ও স্থায়ী শিক্ষা নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।

প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম তাঁর বক্তব্যে মন্তব্য করেন, অতীতে বিশেষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক কারণে শিক্ষা কমিশন গঠন সম্ভব হয়নি। তিনি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দ্রুত একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা থেকে উত্তরণে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে একটি উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সুধীজনরা শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। আয়োজকরা জানান, বৈঠকে উত্থাপিত সকল প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে সেগুলো আসন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।