ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

অর্থনীতির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, সোনালী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ধারায় আনার তাগিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের অর্থনীতি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে এবং তা মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সাথে সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও আদায় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে সোনালী ব্যাংককে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ও স্থিতিশীল করতে চেষ্টা করলেও সব ক্ষেত্রে সফল হতে পারেনি। সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ আরও বড় ও কঠিন হবে, যা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। সোনালী ব্যাংকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির কোনো মূলধন ঘাটতি নেই এবং এডভান্স-ডিপোজিট (এডি) রেশিও সন্তোষজনক। এটি সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও বলেন, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ীদের চেয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বড় ঋণে ঝুঁকির মাত্রা বেশি হওয়ায় এসএমই খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানো জরুরি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও আদায়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারলেও তা আদায়ে ব্যর্থ হয়, যার ফলে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত করতে হয়েছে। এটি কোনো টেকসই মডেল হতে পারে না। গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক যদি আমানত সংগ্রহ করে তা বৃহৎ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে না পারে, তবে আমাদের অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। সোনালী ব্যাংক বর্তমানে সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে, তবে এখন আরও সাহসের সঙ্গে ঋণ বিতরণে এগিয়ে আসতে হবে।

সোনালী ব্যাংককে সত্যিকারের বাণিজ্যিক ব্যাংকের দিকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি আংশিক বাণিজ্যিক নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এটিকে আরও বৃহত্তর পরিসরে একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গত বছরের লাভের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্জিত মুনাফা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য প্রভিশন ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হবে। এর ফলে সোনালী ব্যাংক আগামীতে লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জেনারেল ম্যানেজার ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহী এবং ব্যাংকের সকল শাখা প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনীতির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, সোনালী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ধারায় আনার তাগিদ

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের অর্থনীতি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে এবং তা মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সাথে সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও আদায় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে সোনালী ব্যাংককে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ও স্থিতিশীল করতে চেষ্টা করলেও সব ক্ষেত্রে সফল হতে পারেনি। সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ আরও বড় ও কঠিন হবে, যা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। সোনালী ব্যাংকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির কোনো মূলধন ঘাটতি নেই এবং এডভান্স-ডিপোজিট (এডি) রেশিও সন্তোষজনক। এটি সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও বলেন, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ীদের চেয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বড় ঋণে ঝুঁকির মাত্রা বেশি হওয়ায় এসএমই খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানো জরুরি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও আদায়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারলেও তা আদায়ে ব্যর্থ হয়, যার ফলে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত করতে হয়েছে। এটি কোনো টেকসই মডেল হতে পারে না। গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক যদি আমানত সংগ্রহ করে তা বৃহৎ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে না পারে, তবে আমাদের অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। সোনালী ব্যাংক বর্তমানে সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে, তবে এখন আরও সাহসের সঙ্গে ঋণ বিতরণে এগিয়ে আসতে হবে।

সোনালী ব্যাংককে সত্যিকারের বাণিজ্যিক ব্যাংকের দিকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি আংশিক বাণিজ্যিক নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এটিকে আরও বৃহত্তর পরিসরে একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গত বছরের লাভের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্জিত মুনাফা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য প্রভিশন ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হবে। এর ফলে সোনালী ব্যাংক আগামীতে লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জেনারেল ম্যানেজার ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহী এবং ব্যাংকের সকল শাখা প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।