ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ডলারের সরবরাহ বাড়ায় বাজার থেকে ৪.১৫ বিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের ডলার বাজারে সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক কেনা ডলারের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৫ কোটি বা ৪.১৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজার ভারসাম্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। ডলারের মূল্য যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখছে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার ব্যাপক অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সে সময় প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছিল। তৎকালীন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। এই পরিসংখ্যান বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ের স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারাও ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এর পরিমাণ ২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে পূর্ববর্তী সরকারের সময় রিজার্ভ ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

ডলারের সরবরাহ বাড়ায় বাজার থেকে ৪.১৫ বিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ডলার বাজারে সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক কেনা ডলারের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৫ কোটি বা ৪.১৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজার ভারসাম্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। ডলারের মূল্য যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখছে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার ব্যাপক অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সে সময় প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছিল। তৎকালীন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। এই পরিসংখ্যান বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ের স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারাও ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এর পরিমাণ ২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে পূর্ববর্তী সরকারের সময় রিজার্ভ ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।