ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিন: গয়েশ্বর রায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গণতন্ত্র ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটি দায়িত্বশীল সরকার গঠনে সুযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র না থাকলে দেশ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে।

সোমবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ঈদগা মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর ধরে জনগণের পক্ষে তাদের অধিকার রক্ষায় রাজনীতি করে আসছেন এবং গত ১৭ বছর ধরে এ লক্ষ্যে রক্ত ঝরিয়েছেন। ক্ষমতার পালাবদলে জনগণের ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিতে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচিত হলে কেরানীগঞ্জকে একটি সুপরিকল্পিত আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, একটি মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জকে সাজানো হবে। এ সময় তিনি ঢাকা জেলার সকল অফিস-আদালত মহানগর থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পাশাপাশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও কেরানীগঞ্জে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষ নিয়ে নারী ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা স্বৈরশাসনকে বৈধতা দিয়েছে এবং ১৯৯৫ সালে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো ধর্মভিত্তিক যুদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল দেশ রক্ষার যুদ্ধ; তখন কেন জামায়াতের লোকজন জনগণের পক্ষে ছিল না? অনেক আলেমও জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভোট বঞ্চিত মানুষ আশা করছে, তারা নিরাপদে ও শান্তিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল ভোটকেন্দ্রের শান্তি বিনষ্ট করতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাই আগামী ১২ তারিখ সারাদিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

জিনজিরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকাররম হোসেন সাজ্জাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন মাস্টার, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাবুল, প্রবীণ বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, যুবদল নেতা আজাদ হোসেন ও জাহিদ মামুন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জিনজিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সানজিদা ইসলাম তুলি

গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিন: গয়েশ্বর রায়

আপডেট সময় : ০৭:০৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গণতন্ত্র ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটি দায়িত্বশীল সরকার গঠনে সুযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র না থাকলে দেশ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে।

সোমবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ঈদগা মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর ধরে জনগণের পক্ষে তাদের অধিকার রক্ষায় রাজনীতি করে আসছেন এবং গত ১৭ বছর ধরে এ লক্ষ্যে রক্ত ঝরিয়েছেন। ক্ষমতার পালাবদলে জনগণের ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিতে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচিত হলে কেরানীগঞ্জকে একটি সুপরিকল্পিত আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, একটি মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জকে সাজানো হবে। এ সময় তিনি ঢাকা জেলার সকল অফিস-আদালত মহানগর থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পাশাপাশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও কেরানীগঞ্জে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষ নিয়ে নারী ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা স্বৈরশাসনকে বৈধতা দিয়েছে এবং ১৯৯৫ সালে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো ধর্মভিত্তিক যুদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল দেশ রক্ষার যুদ্ধ; তখন কেন জামায়াতের লোকজন জনগণের পক্ষে ছিল না? অনেক আলেমও জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভোট বঞ্চিত মানুষ আশা করছে, তারা নিরাপদে ও শান্তিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল ভোটকেন্দ্রের শান্তি বিনষ্ট করতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাই আগামী ১২ তারিখ সারাদিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

জিনজিরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকাররম হোসেন সাজ্জাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন মাস্টার, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাবুল, প্রবীণ বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, যুবদল নেতা আজাদ হোসেন ও জাহিদ মামুন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জিনজিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন।