দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সংঘটিত নারী নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তামান্না অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, একদিকে নারীদের অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে তাদেরই কর্মীরা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এসব অপরাধের বিচার না হলে সমাজ এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হচ্ছে এবং এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসসহ সারাদেশের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘নারী নিপীড়কের ঠিকানা এ দেশে হবে না’, ‘নারী নির্যাতন বন্ধ করো’ এবং ‘নারীর ওপর হামলা কেন, জবাব চাই’—এমন সব স্লোগান দেন। তারা সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
রিপোর্টারের নাম 
























