আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে এজেন্ট নিয়োগ এবং এজেন্ট তালিকা প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোও গ্রহণ করেছে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশীদ এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশীদ বলেন, বর্তমান সময়কালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বারবার কিছু গোষ্ঠীর ক্ষমতালোভ ও সংকীর্ণ স্বার্থান্বেষী রাজনীতির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষ দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে, অথচ সেই ত্যাগের ফল ভোগ করে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি।
তিনি আরও বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নাবলী ও ধারাগুলো সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে এবং একাধিক বিষয়ে একসঙ্গে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐক্যমত্য কমিশন সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তবুও গণভোটের মাধ্যমে অন্তত আংশিক সংস্কার বাস্তবায়নের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রিফাত রশীদ জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হলে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে না। তাই ভবিষ্যতের আন্দোলনকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী প্রচারণার বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে সকাল ৯টায় ‘ইয়েস র্যালি’ অনুষ্ঠিত হবে এবং বিকেল ৩টায় রংপুর টাউন হলে একটি বিশেষ কর্মসূচি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। ৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে সকাল ১১টায় ‘ইয়েস র্যালি’ এবং বিকেল ৩টায় একটি কর্মসূচি পালিত হবে। ৫ ফেব্রুয়ারি খুলনায় সকাল ১১টায় ‘ইয়েস র্যালি’ এবং তার আগে সকাল ১০টায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে। একই দিনে বিকেল ৫টায় বরিশালে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে সেখানে ‘ইয়েস র্যালি’ অনুষ্ঠিত হবে। ৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে সকাল ১০টায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিকেল ৩টায় ‘ইয়েস র্যালি’ অনুষ্ঠিত হবে। ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটে সকাল ১০টায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিকেল ৩টায় ‘ইয়েস র্যালি’ অনুষ্ঠিত হবে। ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সকাল ১০টায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিকেল ৫টায় ‘ইয়েস র্যালি’ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকার শাহবাগ থেকে একটি ‘ইয়েস মার্চ’ বের হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণভোটে সংগঠনের এজেন্ট তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এ সময় রিফাত রশীদ বলেন, গণভোটে এজেন্ট নিয়োগ ও তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সুসংগঠিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে রিফাত রশীদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতার অভাব, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিতর্কিত মন্তব্য রাষ্ট্রকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 
























