ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি: শুল্ক হ্রাসে আশাবাদী বাংলাদেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৯ ফেব্রুয়ারির সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ায় ওই দিনই চুক্তিতে স্বাক্ষরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুল্কহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ রয়েছে। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই বা কোনো ক্ষেত্রে বেশি শুল্কহার প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশ আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে এই হার কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। শুল্কের চূড়ান্ত পরিমাণ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেছিল। তবে আলোচনার সুযোগ রেখে ধাপে ধাপে তা কমিয়ে আনা হয়। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা আলোচনার পর গত ৩১ জুলাই এই হার ২০ শতাংশে নির্ধারিত হলেও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। পরবর্তীতে শুল্ক আরও কমানো এবং মার্কিন তুলা ব্যবহৃত পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকে, যা এবার চুক্তির দিকে গড়াচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, এই সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা, জ্বালানি তেল, এলএনজি, গম ও তুলা আমদানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ সরবরাহ, দাম এবং অভ্যন্তরীণ কনফিগারেশন নিয়ে আলোচনা চলমান আছে বলে সচিব জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় আসবে না, কারণ সামরিক বিষয় বাণিজ্য চুক্তির অংশ নয়।

এদিকে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় জাপানের সঙ্গে এফটিএর আলোচনা শেষ হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যা চলতি বছরেই চূড়ান্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাজারেও এফটিএর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম, যা প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি: শুল্ক হ্রাসে আশাবাদী বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৯ ফেব্রুয়ারির সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ায় ওই দিনই চুক্তিতে স্বাক্ষরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুল্কহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ রয়েছে। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই বা কোনো ক্ষেত্রে বেশি শুল্কহার প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশ আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে এই হার কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। শুল্কের চূড়ান্ত পরিমাণ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেছিল। তবে আলোচনার সুযোগ রেখে ধাপে ধাপে তা কমিয়ে আনা হয়। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা আলোচনার পর গত ৩১ জুলাই এই হার ২০ শতাংশে নির্ধারিত হলেও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। পরবর্তীতে শুল্ক আরও কমানো এবং মার্কিন তুলা ব্যবহৃত পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকে, যা এবার চুক্তির দিকে গড়াচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, এই সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা, জ্বালানি তেল, এলএনজি, গম ও তুলা আমদানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ সরবরাহ, দাম এবং অভ্যন্তরীণ কনফিগারেশন নিয়ে আলোচনা চলমান আছে বলে সচিব জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় আসবে না, কারণ সামরিক বিষয় বাণিজ্য চুক্তির অংশ নয়।

এদিকে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় জাপানের সঙ্গে এফটিএর আলোচনা শেষ হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যা চলতি বছরেই চূড়ান্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাজারেও এফটিএর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম, যা প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।