ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ওয়েজ বোর্ড ছাড়া কোনো মিডিয়া চলতে দেওয়া হবে না: বিএফইউজে মহাসচিব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে কোনো গণমাধ্যম চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে আংশিক ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করে বাকিদের বঞ্চিত রাখা চলবে না; বরং সকল সংবাদকর্মীর জন্য এটি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে দ্রুতই সারা দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা ওয়েজ বোর্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা একটি চরম বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করা জরুরি। এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিনের ছুটির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি থাকলেও সাংবাদিকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও এই সুবিধা পাচ্ছেন না। পেশাগত মানোন্নয়নে এই ছুটি কার্যকর করা সময়ের দাবি।

বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, গত ১৭ বছরে একশ্রেণির সাংবাদিকের অতিমাত্রায় রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কারণে এই মহান পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। সাংবাদিকতার ইতিহাসে এমন নজির নেই যেখানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের সাথে সাথে সাংবাদিকদেরও পালিয়ে যেতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তির লোভ ও দলদাসত্বের কারণে সাংবাদিকতা আজ ধ্বংসের মুখে। ওই সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের অধিকাংশ প্রেস ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত করা হয়েছিল, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান চলবে শুধুমাত্র সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে। কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার বা কোনো উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে প্রেস ক্লাব পরিচালিত হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সাংবাদিকদের এই প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করতে চাইবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, যখন রাজপথে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছিল, তখন কিছু তথাকথিত সাংবাদিক সেই রক্তপাতকে সমর্থন ও উৎসাহিত করেছেন। তারা জাতির বিবেক নয়, বরং জাতির শত্রু। যারা পেশাকে কলঙ্কিত করেছে এবং গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে, তাদের সাথে কোনো আপস হতে পারে না। তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের নৈতিক সিদ্ধান্ত।

পরিশেষে তিনি সাংবাদিকদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা সকল নিপীড়ন মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারব।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমির বিরোধে শিক্ষকের দুই পা কাটার ঘটনায় অবশেষে মৃত্যু, গ্রেপ্তার দুই আসামি

ওয়েজ বোর্ড ছাড়া কোনো মিডিয়া চলতে দেওয়া হবে না: বিএফইউজে মহাসচিব

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে কোনো গণমাধ্যম চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে আংশিক ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করে বাকিদের বঞ্চিত রাখা চলবে না; বরং সকল সংবাদকর্মীর জন্য এটি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে দ্রুতই সারা দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা ওয়েজ বোর্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা একটি চরম বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করা জরুরি। এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিনের ছুটির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি থাকলেও সাংবাদিকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও এই সুবিধা পাচ্ছেন না। পেশাগত মানোন্নয়নে এই ছুটি কার্যকর করা সময়ের দাবি।

বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, গত ১৭ বছরে একশ্রেণির সাংবাদিকের অতিমাত্রায় রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কারণে এই মহান পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। সাংবাদিকতার ইতিহাসে এমন নজির নেই যেখানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের সাথে সাথে সাংবাদিকদেরও পালিয়ে যেতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তির লোভ ও দলদাসত্বের কারণে সাংবাদিকতা আজ ধ্বংসের মুখে। ওই সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের অধিকাংশ প্রেস ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত করা হয়েছিল, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান চলবে শুধুমাত্র সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে। কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার বা কোনো উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে প্রেস ক্লাব পরিচালিত হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সাংবাদিকদের এই প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করতে চাইবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, যখন রাজপথে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছিল, তখন কিছু তথাকথিত সাংবাদিক সেই রক্তপাতকে সমর্থন ও উৎসাহিত করেছেন। তারা জাতির বিবেক নয়, বরং জাতির শত্রু। যারা পেশাকে কলঙ্কিত করেছে এবং গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে, তাদের সাথে কোনো আপস হতে পারে না। তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের নৈতিক সিদ্ধান্ত।

পরিশেষে তিনি সাংবাদিকদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা সকল নিপীড়ন মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারব।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।