চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। শনিবার সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ও বারৈয়াঢালা ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট ও প্রাকৃতিক জলাধার দখলের কারণে সীতাকুণ্ডে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ও ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পয়ঃনিষ্কাশন সংকট এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে খালগুলো পুনঃখনন করা এবং একটি সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে সীতাকুণ্ড শুধু জলাবদ্ধতা থেকেই মুক্তি পাবে না, বরং এটি সারা দেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্রুত খাল পুনঃখনন না হলে এখানকার কৃষি ও শিল্প—কোনো খাতেরই পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
আসলাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, উত্তর সীতাকুণ্ডের মানুষ মূলত কৃষিনির্ভর। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, কৃষকদের বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডকে দেশের অন্যতম প্রধান শস্যভাণ্ডারে পরিণত করা সম্ভব। তিনি ‘কৃষিকার্ড’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হবে। এর ফলে একদিকে যেমন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকবান্ধব এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন, শিল্প ও কৃষির সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক, কর্মসংস্থানমুখী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব। তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সীতাকুণ্ড দেশের একটি আদর্শ মডেল নগরীতে পরিণত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















