ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নাগরিক বৈষম্য দূর করে ঢাকা-৯ কে বাসযোগ্য করার অঙ্গীকার ডা. তাসনিম জারার

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নাগরিক সমস্যা নিরসনে ছয় দফার এক বিস্তারিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন। গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি তার এই কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছেন।

ইশতেহার ঘোষণা কালে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও এখানকার বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, গুলশান-বনানীর সমান কর পরিশোধ করেও এ এলাকার মানুষ তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে। নেতারা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তাদের আর দেখা যায় না। রাষ্ট্র কেবল এই এলাকাকে রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকে। নিজেকে এই এলাকার সন্তান দাবি করে তিনি বলেন, “আমি কোনো অতিথি পাখি নই। এই এলাকার সমস্যাগুলো আমি নিজে অনুভব করি এবং তা সমাধানের লক্ষ্যেই নির্বাচনে এসেছি।”

সেবা না দিলে বিল নয়: গ্যাস ও অবকাঠামো উন্নয়ন
গ্যাস সংকট নিয়ে ডা. জারা একটি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাসের পর মাস গ্যাস না পেয়েও গ্রাহকদের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা অনৈতিক। নির্বাচিত হলে তিনি সংসদে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতি বাস্তবায়নে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন। এছাড়া সরকারি ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সরবরাহ এবং এলপিজি বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষা মৌসুমের আগেই নালা ও খাল পরিষ্কারে ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার কথা জানান এই প্রার্থী।

স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিকায়ন ও ডেঙ্গু টাস্কফোর্স
পেশায় চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর এবং সেখানে চিকিৎসক ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা বছরব্যাপী একটি বিশেষ ‘ডেঙ্গু টাস্কফোর্স’ গঠনের পাশাপাশি নারী ও অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নিরাপত্তা ও মাদক নির্মূল
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অলিগলিতে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট বন্ধ করাই হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল সংলগ্ন রাস্তায় পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে ‘নিরাপদ করিডোর’ গড়ে তোলা হবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

শিক্ষা ও মেধার মূল্যায়ন
শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে স্কুল ভর্তিতে সংসদ সদস্যের বিশেষ কোটা বা সুপারিশ প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেন ডা. জারা। তিনি প্রতিটি স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, লাইব্রেরি এবং কোডিং ও ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি ‘স্মার্ট প্রজন্ম’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরাসরি যোগাযোগ ও জবাবদিহিতা
নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে ডা. জারা জানান, এক মাসের মধ্যে এলাকায় একটি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হবে, যেখানে কোনো প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ মানুষ সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এছাড়া নাগরিক সমস্যার সমাধানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘ওপেন ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে এলাকার প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের মহড়া ও অমানুষের কাজ বরদাশত নয়’: বিরোধীদলীয় নেতা

নাগরিক বৈষম্য দূর করে ঢাকা-৯ কে বাসযোগ্য করার অঙ্গীকার ডা. তাসনিম জারার

আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নাগরিক সমস্যা নিরসনে ছয় দফার এক বিস্তারিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন। গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি তার এই কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছেন।

ইশতেহার ঘোষণা কালে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও এখানকার বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, গুলশান-বনানীর সমান কর পরিশোধ করেও এ এলাকার মানুষ তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে। নেতারা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তাদের আর দেখা যায় না। রাষ্ট্র কেবল এই এলাকাকে রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকে। নিজেকে এই এলাকার সন্তান দাবি করে তিনি বলেন, “আমি কোনো অতিথি পাখি নই। এই এলাকার সমস্যাগুলো আমি নিজে অনুভব করি এবং তা সমাধানের লক্ষ্যেই নির্বাচনে এসেছি।”

সেবা না দিলে বিল নয়: গ্যাস ও অবকাঠামো উন্নয়ন
গ্যাস সংকট নিয়ে ডা. জারা একটি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাসের পর মাস গ্যাস না পেয়েও গ্রাহকদের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা অনৈতিক। নির্বাচিত হলে তিনি সংসদে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতি বাস্তবায়নে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন। এছাড়া সরকারি ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সরবরাহ এবং এলপিজি বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষা মৌসুমের আগেই নালা ও খাল পরিষ্কারে ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার কথা জানান এই প্রার্থী।

স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিকায়ন ও ডেঙ্গু টাস্কফোর্স
পেশায় চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর এবং সেখানে চিকিৎসক ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা বছরব্যাপী একটি বিশেষ ‘ডেঙ্গু টাস্কফোর্স’ গঠনের পাশাপাশি নারী ও অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নিরাপত্তা ও মাদক নির্মূল
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অলিগলিতে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট বন্ধ করাই হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল সংলগ্ন রাস্তায় পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে ‘নিরাপদ করিডোর’ গড়ে তোলা হবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

শিক্ষা ও মেধার মূল্যায়ন
শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে স্কুল ভর্তিতে সংসদ সদস্যের বিশেষ কোটা বা সুপারিশ প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেন ডা. জারা। তিনি প্রতিটি স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, লাইব্রেরি এবং কোডিং ও ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি ‘স্মার্ট প্রজন্ম’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরাসরি যোগাযোগ ও জবাবদিহিতা
নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে ডা. জারা জানান, এক মাসের মধ্যে এলাকায় একটি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হবে, যেখানে কোনো প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ মানুষ সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এছাড়া নাগরিক সমস্যার সমাধানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘ওপেন ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে এলাকার প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।