ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সফলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে শেষ হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

মাসব্যাপী জমজমাট বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও দর্শনার্থীদের বিপুল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম এই বাণিজ্য প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এবারের মেলায় ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ এবং প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার স্থানীয় বেচাকেনা হয়েছে, যা আয়োজকদের মতে মেলাটিকে সফলতার নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন মাননীয় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

এবারের আসরে বাংলাদেশসহ ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি দেশ থেকে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পোশাক, চামড়াজাত সামগ্রী, পাট ও পাটনির্ভর দ্রব্য, কৃষিজ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, আসবাব, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স উপকরণ, কসমেটিক্স, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট পণ্য, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করে।

মেলায় বেশ কিছু নতুন উদ্ভাবিত পণ্য দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাঁশের তৈরি ওয়ালটপ ও বাস্কেট, বহুমুখী পাটপণ্য, ড্রাই-ক্যান্ডি, কাপ্তাই লেকের রুই মাছের চিপস, হারবাল ও রোজেলা চা, অর্গানিক হেয়ার ওয়েল, ভেজিটেবল ডাইংয়ের পোশাক, ঢাকাই মসলিন শাড়ি, মসলিন স্কার্ফ, পাটের ট্যাপেস্ট্রি, আর্টিফিশিয়াল ফুল এবং রেডি-টু-ইট বিরিয়ানী আইটেম।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রায় ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি টাকার সমান। বহুমুখী পাটপণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন দ্রব্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা ও ফেব্রিক্স খাতে এসব আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া এবং তুরস্কের ক্রেতারা এসব পণ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। স্থানীয় বাজারেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। রেস্তোঁরাসহ অভ্যন্তরীণ ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় বিক্রয়মূল্যে ৩.৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য, পণ্য উপস্থাপন, দর্শকসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। রপ্তানি পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য সামনে রেখে মেলার পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারি ট্রেড প্রমোশন সংস্থা এবং বিভিন্ন ট্রেড সংগঠনের সমন্বয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য লোকসংগীত ও আধুনিক গানের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। যাতায়াত সুবিধায় বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশন রেটে পাঠাও সেবা যুক্ত ছিল। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ ও স্টল বরাদ্দ ব্যবস্থাও চালু ছিল। এছাড়া ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের জন্য এক্সপোর্ট এনক্লেভ, সিনিয়র সিটিজেন কর্নার, মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র, শিশু পার্ক, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল।

আয়োজকরা জানান, সার্বিক আয়োজন, অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক ফলাফলের দিক থেকে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা একটি সফল ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও শিল্প খাতের দূরত্ব: দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বড় বাধা

সফলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে শেষ হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মাসব্যাপী জমজমাট বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও দর্শনার্থীদের বিপুল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম এই বাণিজ্য প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এবারের মেলায় ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ এবং প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার স্থানীয় বেচাকেনা হয়েছে, যা আয়োজকদের মতে মেলাটিকে সফলতার নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন মাননীয় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

এবারের আসরে বাংলাদেশসহ ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি দেশ থেকে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পোশাক, চামড়াজাত সামগ্রী, পাট ও পাটনির্ভর দ্রব্য, কৃষিজ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, আসবাব, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স উপকরণ, কসমেটিক্স, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট পণ্য, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করে।

মেলায় বেশ কিছু নতুন উদ্ভাবিত পণ্য দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাঁশের তৈরি ওয়ালটপ ও বাস্কেট, বহুমুখী পাটপণ্য, ড্রাই-ক্যান্ডি, কাপ্তাই লেকের রুই মাছের চিপস, হারবাল ও রোজেলা চা, অর্গানিক হেয়ার ওয়েল, ভেজিটেবল ডাইংয়ের পোশাক, ঢাকাই মসলিন শাড়ি, মসলিন স্কার্ফ, পাটের ট্যাপেস্ট্রি, আর্টিফিশিয়াল ফুল এবং রেডি-টু-ইট বিরিয়ানী আইটেম।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রায় ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি টাকার সমান। বহুমুখী পাটপণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন দ্রব্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা ও ফেব্রিক্স খাতে এসব আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া এবং তুরস্কের ক্রেতারা এসব পণ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। স্থানীয় বাজারেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। রেস্তোঁরাসহ অভ্যন্তরীণ ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় বিক্রয়মূল্যে ৩.৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য, পণ্য উপস্থাপন, দর্শকসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। রপ্তানি পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য সামনে রেখে মেলার পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারি ট্রেড প্রমোশন সংস্থা এবং বিভিন্ন ট্রেড সংগঠনের সমন্বয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য লোকসংগীত ও আধুনিক গানের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। যাতায়াত সুবিধায় বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশন রেটে পাঠাও সেবা যুক্ত ছিল। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ ও স্টল বরাদ্দ ব্যবস্থাও চালু ছিল। এছাড়া ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের জন্য এক্সপোর্ট এনক্লেভ, সিনিয়র সিটিজেন কর্নার, মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র, শিশু পার্ক, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল।

আয়োজকরা জানান, সার্বিক আয়োজন, অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক ফলাফলের দিক থেকে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা একটি সফল ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।