প্রায় এক হাজার বছর ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় হলেও ব্রিটিশ ও মুঘল শাসনামলে ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় সমাজে জাকাতের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের ওপর জোর দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত শনিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত ১৪তম জাকাত ফেয়ারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জাকাত কোনো দান-দক্ষিণা নয়, বরং এটি গরিবের ন্যায্য অধিকার। অথচ আমাদের সমাজে এই মৌলিক ইবাদতটি বর্তমানে উপেক্ষিত। তিনি জাকাত ব্যবস্থাপনাকে একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জাকাতকে সঠিকভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)-এর ভূমিকা প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খালিদ হোসেন আরও বলেন, যদি জাকাত যথাযথভাবে আদায় ও বণ্টন করা যেত, তাহলে সমাজে অনেক সামাজিক সমস্যা যেমন দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও অন্যান্য অবক্ষয় অনেকাংশে হ্রাস পেত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের দেশে যৌনবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া একটি দুঃখজনক বাস্তবতা, যা সঠিক জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। তিনি সামর্থ্যবানদের জাকাত আদায়ে অনীহার সমালোচনা করে বলেন, যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও জাকাত আদায় করেন না, তাদের ঈমান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এই বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব একটি গভীর দার্শনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের তিনটি প্রধান দিক হলো—গন্তব্য নির্ধারণ, সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ এবং পথচলায় ব্যবহৃত উপকরণ বা ইনস্ট্রুমেন্ট। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘও এই গন্তব্য নির্ধারণ নিয়ে সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিজেডএম যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার একটি বৈশ্বিক গুরুত্ব রয়েছে।
ড. জিল্লুর রহমান বলেন, জাকাত শুধু একটি আর্থিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। জাকাত প্রদান করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সেটির তদারকিও অত্যন্ত জরুরি। তাই জাকাত দেওয়ার শুরু থেকে এর সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















