গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে একে ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, মৃত্যুর ক্ষেত্রে অন্তত শেষ বিদায়ের সুযোগ থাকে, কিন্তু গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সেই পথও রুদ্ধ হয়ে যায়।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোনো মানুষ মারা গেলে তার পরিবারের সদস্যরা শোক পালন করতে পারেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী দাফন বা শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সুযোগ পান। কিন্তু গুমের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্ষেত্রে প্রিয় মানুষটি কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে, তা পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন না। এই চরম অনিশ্চয়তা স্বজনদের তিলে তিলে শেষ করে দেয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুমের শিকার পরিবারগুলো কেবল মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তারা দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়। এক ধরণের অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে হয়, যেখানে তারা না পারেন শোক করতে, না পারেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে। অনেক ক্ষেত্রে এসব পরিবারকে সামাজিক অবজ্ঞা ও একঘরে হয়ে পড়ার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতাও সহ্য করতে হয়।
বিলিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সিম্পোজিয়ামে আরও বক্তব্য প্রদান করেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাজ্জাদ হোসেন এবং বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা, বিলিয়ার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ একরামুল হক এবং বিলিয়ার পরিচালক রাষ্ট্রদূত এম. মারুফ জামান। বক্তারা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে এবং গুমের মতো অপরাধ বন্ধে কার্যকর আইনি কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























