জ্ঞানকে প্রজ্ঞার সাথে প্রয়োগ এবং অর্জিত দক্ষতাকে নৈতিকতার মানদণ্ডে পরিচালিত করার জন্য নতুন গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ। তিনি বলেন, সমাবর্তন কেবল একটি প্রথাগত অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট দেশের আগামীর বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি, নেতৃত্ব এবং উদ্ভাবনের ধারক।
শনিবার সকালে চট্টগ্রামের কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষা এখন একটি বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে, যা দেশের যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি আইআইইউসি-র শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, যোগ্য, সৎ ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক তৈরির যে লক্ষ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে, তা জাতীয় অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। গুণগত শিক্ষা অসাম্য দূর করে একটি আলোকিত সমাজ গঠনে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিক অবক্ষয়ও প্রকট হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের এই যুগে কেবল দক্ষ পেশাদার হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং নীতিবান চিন্তাবিদ হওয়া জরুরি। তিনি মুসলিম বিজ্ঞানীদের সোনালী ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ইসলাম ও বিজ্ঞানের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সত্যের অনুসন্ধান এবং সৃষ্টির সেবাই হওয়া উচিত জ্ঞানার্জনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি-র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। তিনি বলেন, সমাবর্তন হলো কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার এক মহৎ উদযাপন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ থেকে মানবতার কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। আইআইইউসি নৈতিক ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি চৌকস প্রজন্ম তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও সমাবর্তন কমিটির কো-কনভেনার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়, যা শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
রিপোর্টারের নাম 






















