চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুর এখন কেবল একটি জনপদ নয়, বরং অপরাধ জগতের এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এখানে আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল আন্ডারওয়ার্ল্ড। সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই এলাকার অপরাধ জগতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দুর্গম এই পাহাড়ে অপরাধীরা তৈরি করেছে নিজস্ব শাসনব্যবস্থা ও ত্রিমাত্রিক নেটওয়ার্ক, যা সাধারণের কল্পনারও বাইরে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জঙ্গল ছলিমপুরের এই অন্ধকার জগৎ মূলত তিনটি স্তরে পরিচালিত হয়। প্রথম স্তরে রয়েছে মূল নিয়ন্ত্রক বা গডফাদাররা, যারা পর্দার আড়ালে থেকে পুরো এলাকার আধিপত্য বজায় রাখে। দ্বিতীয় স্তরে কাজ করে তাদের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী, যারা পাহাড়ের প্রতিটি প্রবেশপথে কড়া নজরদারি চালায়। আর তৃতীয় স্তরে রয়েছে তথ্যের আদান-প্রদানকারী বা ‘ইনফর্মার’ নেটওয়ার্ক, যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামান্যতম নড়াচড়াও মূল হোতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে দুর্গম এই এলাকায় অভিযান চালানো পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিজস্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। তারা সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিশেষ ধরনের সিগন্যাল বা কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে। এমনকি পাহাড়ের চূড়ায় বসানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ চৌকি, যেখান থেকে বাইনোকুলারের মাধ্যমে বহিরাগতদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এখানে বসতি স্থাপন করা সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে তাদের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধী চক্রটি।
জঙ্গল ছলিমপুরের এই বিশাল এলাকায় সরকারি বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগ না থাকলেও, সেখানে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানির লাইন। মূলত পাহাড় কেটে প্লট বরাদ্দ এবং অবৈধ দখলদারিত্বের মাধ্যমেই এখানে কাড়ি কাড়ি টাকা লেনদেন হয়। এই অবৈধ অর্থের জোরেই অপরাধীরা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং পাহাড়ের ভেতরেই গড়ে তুলেছে নিরাপদ আস্তানা।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গল ছলিমপুরকে অপরাধমুক্ত করতে তারা নিয়মিত কাজ করছেন। তবে ভৌগোলিক অবস্থান এবং অপরাধীদের সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের কারণে অনেক সময় অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবুও অপরাধের এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জঙ্গল ছলিমপুরকে একটি সুশৃঙ্খল এলাকায় রূপান্তর করতে উচ্ছেদ অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
রিপোর্টারের নাম 

























