বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশের সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এখন আর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজি নয়। তারা মনে করেন, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচন করা অপরিহার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে পরিবারতন্ত্রের যে চর্চা চলেছে, তা তৃণমূল পর্যায়ের যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের উঠে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার পথ রুদ্ধ হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের অভিমত হলো, রাজনীতি কোনো পারিবারিক সম্পত্তি নয়; বরং এটি জনসেবার একটি মাধ্যম হওয়া উচিত যেখানে যোগ্যতাই হবে নেতৃত্বের প্রধান মাপকাঠি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা জোরালো হচ্ছে যে, পরিবারতন্ত্রের কারণে রাজনীতিতে জবাবদিহিতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। যখন নেতৃত্ব কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের বৃত্তে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন সেখানে চাটুকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলো আড়ালে পড়ে যায়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সচেতন সমাজ ও ছাত্র-জনতা একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখছে, যেখানে কোনো বিশেষ বংশীয় পরিচয় নয়, বরং দেশপ্রেম, সততা এবং দক্ষতা হবে নেতা নির্বাচনের ভিত্তি। তারা চান এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ, যেখানে সাধারণ ঘরের সন্তানও তার মেধা ও ত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসীন হতে পারেন।
বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলছেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পেতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের গঠনতন্ত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবারতন্ত্রের মায়া কাটিয়ে দলগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সংস্কৃতি চালু করা এখন সময়ের দাবি। কেবল তখনই একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























