বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে রাজধানীতে সফলভাবে সম্পন্ন হলো চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুতা, ফেব্রিক ও ডেনিম পণ্যের সর্বশেষ উদ্ভাবন ও টেকসই প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে মূলত দুটি প্রদর্শনী একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ‘২৫তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো ২০২৬ – শীতকালীন সংস্করণ’ এবং ‘৮ম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ডেনিম শো ২০২৬’। কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ) এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এর টেক্সটাইল শিল্প উপ-পরিষদ (সিসিপিআইটি-টেক্স চায়না) যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
এবারের প্রদর্শনীতে বিশ্বের ১৫টিরও বেশি দেশের প্রায় ৩২৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। আইসিসিবির বিভিন্ন হলে সাজানো ৬৫০টিরও বেশি বুথে প্রদর্শিত হয়েছে উন্নত মানের সুতা, বৈচিত্র্যময় ফেব্রিক এবং ডেনিম শিল্পের আধুনিক সব উপকরণ। মেলা চলাকালীন প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও শিল্প সংশ্লিষ্ট দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল প্রদর্শনী প্রাঙ্গণ।
প্রদর্শনীর সমান্তরালে টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ কেন জরুরি’ শীর্ষক সেমিনারে এ দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশে ‘মাইস’ (সভা, প্রণোদনা, সম্মেলন ও প্রদর্শনী) পর্যটনের গুরুত্ব ও এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি আলোচিত হয়।
আয়োজক সংস্থা সেমস-গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের অগ্রগতিতে এ ধরনের প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। সিসিপিআইটি-টেক্স চায়নার সেক্রেটারি জেনারেল চেন বো এই আয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কমার্শিয়াল কনস্যুলেট সং ইয়াং। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আরিফুর রহমান খান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন এবং বিজিএমইএ-র পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও উৎপাদনকারীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সেতুবন্ধন তৈরিতে এটি একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে দেশের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টারের নাম 

























