দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে এবং একটি ন্যায় ও সততার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক সম্মেলন: দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কনভেনশন ২০২৬। ‘দুর্নীতিকে না বলি-ন্যায় ও সততার বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
‘সিটিজেন অ্যাগেইনস্ট করাপশন’ নামক সংগঠন এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনটির জেনারেল সেক্রেটারি সালমান মাহমুদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে বর্জনীয় করে তুলতে নাগরিক সমাজের আরও বলিষ্ঠ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘সিটিজেন অ্যাগেইনস্ট করাপশন’ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি একটি নিছক নাগরিক আন্দোলন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘না’ বলার সাহসই পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে।
সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি সালমান মাহমুদ তার উপস্থাপিত প্রবন্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট, এর গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং এই বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া কোনো অলীক স্বপ্ন নয়; নাগরিকরা যদি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হন, তবে এই পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























