ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“তারেক রহমান বলেছেন, বাচ্চাদের ঠিকমতো দেখাশোনার সুযোগ না পেয়ে যখন কোনো মা চাকরি ছেড়ে দেন, তখন আসলে বাংলাদেশই তার সম্ভাবনা হারায়।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

কাজের জায়গায় (কর্মক্ষেত্রে) ডে-কেয়ার সেন্টার বানানোর একটা বড় পরিকল্পনা (মহাপরিকল্পনা) আছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির লক্ষ্য হলো এমন একটা দেশ গড়া, যেখানে কোনো মহিলাকে তার সংসার (পরিবার) আর নিজের ভবিষ্যৎ—এই দুটোর মধ্যে যেকোনো একটাকে বেছে নিতে হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তিনি তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটা পোস্ট দিয়ে এই কথাগুলো জানিয়েছেন।

তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যখন একজন তরুণী মা বাচ্চাদের দেখাশোনার ভালো ব্যবস্থা (শিশু পরিচর্যা) না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন, অথবা কোনো ছাত্রী পড়ালেখা থামিয়ে দেন, তখন কী হয়? তখন বাংলাদেশ তার সম্ভাবনা, উৎপাদন ক্ষমতা আর উন্নতি (অগ্রগতি) হারায়।’

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির লক্ষ্যটা খুব সোজা: এমন একটা আধুনিক আর জনগণের কাছের (গণমুখী) বাংলাদেশ গড়া—যেখানে কোনো নারীকে তার পরিবার আর ভবিষ্যতের মধ্যে যেকোনো একটাকে বেছে নিতে না হয়।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের যে শ্রমশক্তির জরিপ, সেটা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা কাজের বাজারে (শ্রমবাজারে) অনেক কম ঢুকছেন: যেখানে মোট পুরুষদের ৮০ শতাংশ কাজ করেন, সেখানে মোট নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ কর্মজীবী। এই যে একটা বড় তফাৎ (ব্যবধান), এটা আমাদের সাবধান করে দিচ্ছে যে, আমরা আমাদের দেশের অর্ধেকেরও বেশি মেধা আর দক্ষতাকে কাজেই লাগাচ্ছি না, তাদের পেছনে ফেলে রাখছি।’

(তারেক রহমান বলেন,) ‘এই কারণেই বিএনপি সারা দেশজুড়ে এমন একটা উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে, যাতে বাচ্চাদের দেখাশোনা বা শিশু পরিচর্যা (চাইল্ড কেয়ার) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির (প্রবৃদ্ধি) কৌশলের একটা অংশ হয়ে দাঁড়ায়।’

তিনি জানান, তাদের পরিকল্পনায় আছে:

  • সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার খোলা;
  • সরকারি অফিসগুলোতেও ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টার খোলার জন্য একটা জাতীয় পরিকল্পনা নেওয়া;
  • বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর কারখানাগুলোতে ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা রাখাটা বাধ্যতামূলক করা;
  • যেসব মালিক (নিয়োগকর্তা) বাচ্চাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা রাখবেন, তাদের জন্য ট্যাক্স কমানো (কর সুবিধা) আর সিএসআর ক্রেডিটের ব্যবস্থা করা; এবং
  • নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে মান ঠিক করে দেবে, সেই অনুযায়ী যারা বাচ্চাদের যত্ন নেবেন (কেয়ারগিভার), তাদের ট্রেনিং দেওয়া আর সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু এই একটা সংস্কারই (পরিবর্তন) দেশে নারীদের চাকরি (কর্মসংস্থান) বাড়াতে পারে, পরিবারের আয় বাড়াতে পারে, দেশের যে বড় মধ্যবিত্ত শ্রেণি আছে, তাদের আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করতে পারে এবং আমাদের জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু তৈরি পোশাক কারখানায় (শিল্পে) যারা কাজ করেন, তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী, তাই এই কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে ছোট করে দেখা একদমই ঠিক না। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) আর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গবেষণায় দেখা গেছে—যেসব কারখানায় বাচ্চাদের দেখাশোনার (শিশু পরিচর্যা) সুবিধা আছে, সেখানে কর্মীরা চাকরি ছেড়ে দেয় না (কর্মী ধরে রাখার হার বেশি), তারা কাজেও কম কামাই (অনুপস্থিতি) করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের মধ্যেই এই বাড়তি খরচের টাকাটা তুলে ফেলতে পারে।’

‘বাচ্চাদের দেখাশোনা (শিশু পরিচর্যা) কোনো দয়া-দাক্ষিণ্যের ব্যাপার নয়, এটা হলো সামাজিক আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার (অবকাঠামোর) একটা খুব জরুরি অংশ। রাস্তাঘাট যেমন বাজারকে একটার সাথে আরেকটা জুড়ে দেয় (সংযুক্ত করে), ঠিক তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো নারীদেরকে তাদের কাজের জায়গার (কর্মজীবনে) সাফল্যের সাথে জুড়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য (দৃষ্টিভঙ্গি) পরিষ্কার: ২০৩৪ সালের মধ্যে এমন একটা ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে সবার অংশগ্রহণ থাকবে (অন্তর্ভুক্তিমূলক), যা লাখ লাখ নতুন কাজের সুযোগ (কর্মসংস্থান) তৈরি করবে—যেখানে দেশের প্রত্যেকটা মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, দেশের এই উন্নতিতে (প্রবৃদ্ধিতে) গর্বের সাথে অবদান রাখবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এমন যেকোনো পুরোনো চিন্তাভাবনা (পশ্চাৎমুখী ধারণা) বাতিল করছি, যা নারীদের সম্ভাবনাকে আটকে (সীমাবদ্ধ) রাখে। বাচ্চাদের যত্ন, সমান বেতন আর কাজের জায়গায় নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতা বাড়ানোটা (ক্ষমতায়ন) শুধু যে একটা ন্যায্য ব্যাপার, তা-ই নয়; এটাই হলো আসল বুদ্ধির অর্থনীতি (বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতি)।’

তিনি সবশেষে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটা বাংলাদেশ গড়ি—যেখানে প্রত্যেক কর্মজীবী মা আর প্রত্যেক ছাত্রী নিজের চেষ্টায় সফল হওয়ার (সাফল্যের) স্বাধীনতা পান এবং যেখানে সমাজের যত্ন আর সহযোগিতাকেই উন্নতির আসল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় (স্বীকৃতি দেওয়া হয়)।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

“তারেক রহমান বলেছেন, বাচ্চাদের ঠিকমতো দেখাশোনার সুযোগ না পেয়ে যখন কোনো মা চাকরি ছেড়ে দেন, তখন আসলে বাংলাদেশই তার সম্ভাবনা হারায়।”

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

কাজের জায়গায় (কর্মক্ষেত্রে) ডে-কেয়ার সেন্টার বানানোর একটা বড় পরিকল্পনা (মহাপরিকল্পনা) আছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির লক্ষ্য হলো এমন একটা দেশ গড়া, যেখানে কোনো মহিলাকে তার সংসার (পরিবার) আর নিজের ভবিষ্যৎ—এই দুটোর মধ্যে যেকোনো একটাকে বেছে নিতে হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তিনি তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটা পোস্ট দিয়ে এই কথাগুলো জানিয়েছেন।

তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যখন একজন তরুণী মা বাচ্চাদের দেখাশোনার ভালো ব্যবস্থা (শিশু পরিচর্যা) না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন, অথবা কোনো ছাত্রী পড়ালেখা থামিয়ে দেন, তখন কী হয়? তখন বাংলাদেশ তার সম্ভাবনা, উৎপাদন ক্ষমতা আর উন্নতি (অগ্রগতি) হারায়।’

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির লক্ষ্যটা খুব সোজা: এমন একটা আধুনিক আর জনগণের কাছের (গণমুখী) বাংলাদেশ গড়া—যেখানে কোনো নারীকে তার পরিবার আর ভবিষ্যতের মধ্যে যেকোনো একটাকে বেছে নিতে না হয়।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের যে শ্রমশক্তির জরিপ, সেটা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা কাজের বাজারে (শ্রমবাজারে) অনেক কম ঢুকছেন: যেখানে মোট পুরুষদের ৮০ শতাংশ কাজ করেন, সেখানে মোট নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ কর্মজীবী। এই যে একটা বড় তফাৎ (ব্যবধান), এটা আমাদের সাবধান করে দিচ্ছে যে, আমরা আমাদের দেশের অর্ধেকেরও বেশি মেধা আর দক্ষতাকে কাজেই লাগাচ্ছি না, তাদের পেছনে ফেলে রাখছি।’

(তারেক রহমান বলেন,) ‘এই কারণেই বিএনপি সারা দেশজুড়ে এমন একটা উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে, যাতে বাচ্চাদের দেখাশোনা বা শিশু পরিচর্যা (চাইল্ড কেয়ার) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির (প্রবৃদ্ধি) কৌশলের একটা অংশ হয়ে দাঁড়ায়।’

তিনি জানান, তাদের পরিকল্পনায় আছে:

  • সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার খোলা;
  • সরকারি অফিসগুলোতেও ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টার খোলার জন্য একটা জাতীয় পরিকল্পনা নেওয়া;
  • বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর কারখানাগুলোতে ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা রাখাটা বাধ্যতামূলক করা;
  • যেসব মালিক (নিয়োগকর্তা) বাচ্চাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা রাখবেন, তাদের জন্য ট্যাক্স কমানো (কর সুবিধা) আর সিএসআর ক্রেডিটের ব্যবস্থা করা; এবং
  • নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে মান ঠিক করে দেবে, সেই অনুযায়ী যারা বাচ্চাদের যত্ন নেবেন (কেয়ারগিভার), তাদের ট্রেনিং দেওয়া আর সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু এই একটা সংস্কারই (পরিবর্তন) দেশে নারীদের চাকরি (কর্মসংস্থান) বাড়াতে পারে, পরিবারের আয় বাড়াতে পারে, দেশের যে বড় মধ্যবিত্ত শ্রেণি আছে, তাদের আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করতে পারে এবং আমাদের জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু তৈরি পোশাক কারখানায় (শিল্পে) যারা কাজ করেন, তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী, তাই এই কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে ছোট করে দেখা একদমই ঠিক না। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) আর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গবেষণায় দেখা গেছে—যেসব কারখানায় বাচ্চাদের দেখাশোনার (শিশু পরিচর্যা) সুবিধা আছে, সেখানে কর্মীরা চাকরি ছেড়ে দেয় না (কর্মী ধরে রাখার হার বেশি), তারা কাজেও কম কামাই (অনুপস্থিতি) করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের মধ্যেই এই বাড়তি খরচের টাকাটা তুলে ফেলতে পারে।’

‘বাচ্চাদের দেখাশোনা (শিশু পরিচর্যা) কোনো দয়া-দাক্ষিণ্যের ব্যাপার নয়, এটা হলো সামাজিক আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার (অবকাঠামোর) একটা খুব জরুরি অংশ। রাস্তাঘাট যেমন বাজারকে একটার সাথে আরেকটা জুড়ে দেয় (সংযুক্ত করে), ঠিক তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো নারীদেরকে তাদের কাজের জায়গার (কর্মজীবনে) সাফল্যের সাথে জুড়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য (দৃষ্টিভঙ্গি) পরিষ্কার: ২০৩৪ সালের মধ্যে এমন একটা ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে সবার অংশগ্রহণ থাকবে (অন্তর্ভুক্তিমূলক), যা লাখ লাখ নতুন কাজের সুযোগ (কর্মসংস্থান) তৈরি করবে—যেখানে দেশের প্রত্যেকটা মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, দেশের এই উন্নতিতে (প্রবৃদ্ধিতে) গর্বের সাথে অবদান রাখবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এমন যেকোনো পুরোনো চিন্তাভাবনা (পশ্চাৎমুখী ধারণা) বাতিল করছি, যা নারীদের সম্ভাবনাকে আটকে (সীমাবদ্ধ) রাখে। বাচ্চাদের যত্ন, সমান বেতন আর কাজের জায়গায় নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতা বাড়ানোটা (ক্ষমতায়ন) শুধু যে একটা ন্যায্য ব্যাপার, তা-ই নয়; এটাই হলো আসল বুদ্ধির অর্থনীতি (বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতি)।’

তিনি সবশেষে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটা বাংলাদেশ গড়ি—যেখানে প্রত্যেক কর্মজীবী মা আর প্রত্যেক ছাত্রী নিজের চেষ্টায় সফল হওয়ার (সাফল্যের) স্বাধীনতা পান এবং যেখানে সমাজের যত্ন আর সহযোগিতাকেই উন্নতির আসল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় (স্বীকৃতি দেওয়া হয়)।’