ফেনী জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। মুক্তিপণের দাবিতে নাশিত (ছদ্মনাম) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্তকে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আশ্রাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম ও ওমর ফারুক রিফাত।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত বছর ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় কোচিং শেষ করে নাশিত বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত আশ্রাফ হোসেন তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে। তারা তাকে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে গিয়ে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে ফেলে। এরপর নাশিতের ছবি তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ না পেয়ে দুর্বৃত্তরা শিশু নাশিতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সেজন্য তার স্কুলব্যাগে পাথর ভরে রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ পরদিন ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি পুলিশকে তুষার নামে এক কিশোরের ওপর সন্দেহের কথা জানান। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুষারকে হেফাজতে নিলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুলব্যাগসহ লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। নিহত নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। তারা সপরিবারে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
রিপোর্টারের নাম 

























