বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের ব্যাপারে দেওয়া কথা যদি রাখা না হয়, তবে সেই দায় প্রধান উপদেষ্টাকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন” আসলে জনগণ আর রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এক ধরনের ধোঁকা দিয়েছে। এই কমিশন যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাতে বিএনপি যেসব বিষয়ে দ্বিমত করেছিল বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল, তার কিছুই রাখা হয়নি! সেগুলোকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে, উপেক্ষা করা হয়েছে। এটাকে তো ঐকমত্য বলা যায় না। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই কমিশনটা বানানো হয়েছিল কেন? এই “ঐকমত্য কমিশন” জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথেও প্রতারণা করেছে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিচার-সংস্কার-নির্বাচন, অন্তর্বর্তী আমলে বাংলাদেশ’ নামে একটি বইয়ের মোড়ক খোলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বইটি লিখেছেন সাংবাদিক ও লেখক এহসান মাহমুদ এবং প্রকাশ করেছে আদর্শ প্রকাশনী।
মির্জা ফখরুল প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, “সত্যিই যতটুকু সংস্কার করা দরকার, সেটা শেষ করে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচনের ফল জনগণ মেনে নেবে। কিন্তু যদি সেই কথা আপনারা না রাখেন, তাহলে এর সব দায় আপনাকেই নিতে হবে।” ওই অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ‘চর্চা ডটকম’-এর সম্পাদক সোহরাব হাসান, সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বুদ্ধিজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “কালকে ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা তো সেই রিপোর্টের চেয়ারম্যান, তিনিও সই করেছেন। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, আমরা যেসব বিষয়ে একমত হতে পারিনি, সেসব বিষয়ে যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম এবং কথা ছিল সেগুলোও রিপোর্টে থাকবে। কিন্তু কাল যখন রিপোর্টটা প্রকাশ করা হলো, তখন সেই নোটগুলো সব বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কোনো ঐকমত্য নয়, এটা একটা প্রতারণা। এখনই এই বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে। না হলে এটা ঐক্যের বদলে বিভেদ তৈরি করবে।”
বিএনপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের এই সংকট থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হলো একটা সত্যিকারের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের যে সংসদ তৈরি হবে, সেই সংসদই সংবিধানের মধ্য দিয়ে দরকারি সংস্কারগুলো করবে। “এজন্যই আমরা ৫ আগস্টের পরই নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন অনেকে বলাবলি শুরু করল যে, বিএনপি বুঝি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। কিন্তু আজ এটা প্রমাণ হচ্ছে যে, নির্বাচন যত পেছানো হচ্ছে, ততই সেই শক্তিগুলো জোরদার হচ্ছে, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেখতে চায়।” তিনি আরও বলেন, “আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে ভাগ হয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার একটা বাজে প্রবণতা চলছে। অথচ এই সময়টা হলো আমাদের এক হওয়ার সময়। সামান্য বিষয়গুলোতে একমত হয়ে দেশের জন্য একটা পথ ঠিক করার সময় এটা। কিন্তু তা না করে উল্টো বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে।”
বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন একটা প্রচারণাকে তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “বিএনপির জন্মই তো হয়েছিল সংস্কারের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের পর যে একদলীয় শাসন চলছিল, ‘৭৫-এর পর বিএনপিই তো তা পরিবর্তন করে বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছিল। অথচ পরিকল্পিতভাবে একটা প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কারের বিরুদ্ধে। এটা পুরোপুরি মিথ্যা কথা।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা একটা জাতি হিসেবে ঠিক কোনদিকে যেতে চাই—সেটা কি আমরা ঠিকমতো বুঝতে পারছি? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। এত বড় একটা আন্দোলন হলো, এত ত্যাগ, এত প্রাণের বিনিময়ে যে পরিবর্তনটা এলো—সেটা কি আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারছি? দুঃখের বিষয় হলো, দিন যত যাচ্ছে আমরা ততই যেন ভাগ হয়ে যাচ্ছি। কারা এই বিভেদ তৈরি করছে, কেন করছে—এটা আমাদের বুঝতে হবে।”
রিপোর্টারের নাম 






















