চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৃথক দুটি ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করা এবং একটি মসজিদের খতিবকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী খতিব বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদিলপুর গ্রামে নারী কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন জামায়াত নেত্রী মোর্শেদা বেগম। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা নাজমুল আলম সোহাগ ও যুবদল কর্মী আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের পথরোধ করে হট্টগোল শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি ও মহিলা দলের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জামায়াত কর্মীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় জামায়াত নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অন্যদিকে, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারিটোলা এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব আল আমিনকে ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের প্রভাবশালী দুই নেতার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি অডিও ক্লিপে শোনা যায়, জুমার নামাজে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোট বা জনসচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ায় ওই খতিবকে চরমভাবে অপমান করা হচ্ছে। অডিওতে এক যুবদল নেতাকে বলতে শোনা যায়, খতিবকে এলাকায় পাওয়া গেলে শারীরিক লাঞ্ছনা করা হবে।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে খতিব আল আমিন বলেন, “মসজিদে ধর্মীয় ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলায় আমাকে ফোনে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমি এখন এতটাই আতঙ্কিত যে, আগামী জুমার নামাজ পড়াতে মসজিদে যেতে পারব কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছি। এমনকি থানায় গিয়ে অভিযোগ করার সাহসও পাচ্ছি না।”
এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের নারী কর্মীদের ওপর যেভাবে হামলা ও হেনস্তা করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা একটি সুষ্ঠু পরিবেশ আশা করলেও বাস্তবে আমাদের প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
তবে অভিযুক্ত বিএনপি ও যুবদল নেতারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা যুবদলের এক নেতা জানান, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। ইদিলপুরের ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা নাজমুল আলম সোহাগ ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সার্বিক বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ এখনো তার দপ্তরে পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























