ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

একনেক সভায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন: প্রাধান্য পেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মোট ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৪টি একেবারে নতুন, ৬টি সংশোধিত এবং ৫টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে জানানো হয়েছে, মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। সভায় পরিকল্পনা, অর্থ, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পাস হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং জেলা পর্যায়ের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অন্যতম। এছাড়া বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিশালীকরণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধির প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

রেলপথের আধুনিকায়নে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রমও সংশোধিত আকারে সভায় পাস হয়।

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে পুষ্টি সেবা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষিত যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে কুমিল্লার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্যানিটেশন খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ স্থাপনা ও হাইওয়ে থানা নির্মাণের পরিকল্পনাও অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে।

পানি সম্পদ রক্ষায় নদী ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ এবং আড়িয়াল বিল এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ছয়টি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি খাতের উন্নয়নে সবুজায়ন ও শিল্পভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস সংক্রান্ত প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ১০টি প্রকল্পের বিষয়ে একনেককে অবহিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

একনেক সভায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন: প্রাধান্য পেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মোট ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৪টি একেবারে নতুন, ৬টি সংশোধিত এবং ৫টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে জানানো হয়েছে, মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। সভায় পরিকল্পনা, অর্থ, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পাস হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং জেলা পর্যায়ের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অন্যতম। এছাড়া বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিশালীকরণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধির প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

রেলপথের আধুনিকায়নে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রমও সংশোধিত আকারে সভায় পাস হয়।

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে পুষ্টি সেবা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষিত যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে কুমিল্লার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্যানিটেশন খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ স্থাপনা ও হাইওয়ে থানা নির্মাণের পরিকল্পনাও অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে।

পানি সম্পদ রক্ষায় নদী ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ এবং আড়িয়াল বিল এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ছয়টি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি খাতের উন্নয়নে সবুজায়ন ও শিল্পভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস সংক্রান্ত প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ১০টি প্রকল্পের বিষয়ে একনেককে অবহিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।