সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতার সুষম বণ্টন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে অনেক বিধবা ও অসহায় মানুষ তাদের প্রাপ্য ভাতা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।
রোববার দুপুরে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাটির জুম্মা এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের মায়েরা এখনো বিধবা ভাতার টাকা ঠিকমতো পান না। যারা বর্তমান ভাতাগুলোই সঠিকভাবে বণ্টন করতে পারে না, তারা ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পৌঁছে দেবে—তার গ্যারান্টি কোথায়? জনগণের হক বুঝিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা বা সদিচ্ছা তাদের আছে কি না, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।”
ভাতা পেতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের ভাতার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভাতার জন্য মানুষের আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হয়। এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। ভাতা পাওয়ার বিষয়টি কোনো নেতার মর্জির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, বরং এটি মানুষের নাগরিক অধিকার। নির্বাচিত হলে শাপলা কলি প্রতীকের মাধ্যমে এই অধিকারগুলো সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এলাকার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, “আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ তদারকি করার জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করব। এই টিমের কাজ হবে আমাদের এলাকার জন্য বরাদ্দকৃত ন্যায্য হিস্যাগুলো আদায় করে আনা। অতীতে যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এলাকার উন্নয়ন অবহেলিত রয়ে গেছে। গ্রাম অঞ্চলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এর বড় প্রমাণ।”
রংপুর অঞ্চলের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে এই অঞ্চলের মানুষের অধিকারের কথা বলতে চাই। ভোটের আগে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভোটের আগের রাতে এসে কেউ টাকা দিয়ে ভোট নিতে চাইলে প্রলুব্ধ হবেন না। পাঁচ বছরের উন্নয়ন আর অধিকারের বিনিময়ে এক রাতের টাকা কখনোই সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতাকে তার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আমি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করতে আসিনি, মানুষের ভালোবাসা আর বিশ্বাসই আমার শক্তি। আপনাদের দোয়া ও সমর্থনে আমি এই এলাকার চিত্র বদলে দিতে চাই।”
রিপোর্টারের নাম 






















