ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী পোস্টারে তিন ভিন্ন মেরুর নেতার ছবি: নড়িয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অভিনবত্বের ছোঁয়া লেগেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রকাশিত একটি পোস্টারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি পাশাপাশি ব্যবহার করায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘড়িষার ইউনিয়নের বাসিন্দা ফাহিম হাসান রনি মাঝি এবার নিজেকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দাবি করে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, তিনি এবার দলীয় পরিচয় থেকে সরে এসে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি তার ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার এলাকায় টানানো হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়। পোস্টারটির বাম পাশে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ডান পাশে জিয়াউর রহমানের এবং মাঝখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। আর নিচে নিজেকে ‘নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই ব্যতিক্রমী প্রচারণাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এটিকে ভিন্নধর্মী ও সাহসী প্রচারণার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এ ধরনের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সমালোচনা করছেন।

এ বিষয়ে ফাহিম হাসান রনি মাঝি জানান, তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে চান। সে কারণেই তিনি কোনো দলীয় পরিচয় সামনে আনেননি। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি, তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাই তিনি আমার কাছে চির শ্রদ্ধেয়। একইভাবে, জিয়াউর রহমানও স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। এই দুই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাদের ছবি পোস্টারে স্থান পেয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। তাই তাঁকে সম্মান জানাতেই তাঁর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।”

তবে, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই পোস্টার নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছে। কেউ এটিকে নিছক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এই ধরনের প্রচারণা এলাকায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই অভিনব প্রচারণা আগামীতে নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল আজ, ফুটবলেও বিগ ম্যাচ: টিভির পর্দায় একঝাঁক রোমাঞ্চকর লড়াই

নির্বাচনী পোস্টারে তিন ভিন্ন মেরুর নেতার ছবি: নড়িয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা

আপডেট সময় : ০৬:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অভিনবত্বের ছোঁয়া লেগেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রকাশিত একটি পোস্টারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি পাশাপাশি ব্যবহার করায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘড়িষার ইউনিয়নের বাসিন্দা ফাহিম হাসান রনি মাঝি এবার নিজেকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দাবি করে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, তিনি এবার দলীয় পরিচয় থেকে সরে এসে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি তার ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার এলাকায় টানানো হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়। পোস্টারটির বাম পাশে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ডান পাশে জিয়াউর রহমানের এবং মাঝখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। আর নিচে নিজেকে ‘নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই ব্যতিক্রমী প্রচারণাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এটিকে ভিন্নধর্মী ও সাহসী প্রচারণার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এ ধরনের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সমালোচনা করছেন।

এ বিষয়ে ফাহিম হাসান রনি মাঝি জানান, তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে চান। সে কারণেই তিনি কোনো দলীয় পরিচয় সামনে আনেননি। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি, তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাই তিনি আমার কাছে চির শ্রদ্ধেয়। একইভাবে, জিয়াউর রহমানও স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। এই দুই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাদের ছবি পোস্টারে স্থান পেয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। তাই তাঁকে সম্মান জানাতেই তাঁর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।”

তবে, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই পোস্টার নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছে। কেউ এটিকে নিছক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এই ধরনের প্রচারণা এলাকায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই অভিনব প্রচারণা আগামীতে নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।